সাহিত্য পাঠ • একটি তুলসী গাছের কাহিনি

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

সুশীল বাবু ১৯৭১ সালে দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে নিজের বাড়ির উঠানের তুলসী গাছটির দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান প্রতিবেশী করিম সাহেবকে। করিম সাহেব ধর্মের ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রতিদিন গাছটির গোড়ায় পানি দিতেন, আগাছা পরিষ্কার করতেন। দীর্ঘ বছর পর সুশীল বাবুর ছেলে দেশে ফিরে দেখে, গাছটি আগের মতোই সতেজ রয়েছে। সে করিম সাহেবের হাত ধরে অশ্রুসজল চোখে বলে, ‘আপনি গাছ নয়, আমাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’

  1. ক)

    ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

    (1)
  2. খ)

    ‘যত্নের অভাবে তুলসী গাছটা অচিরেই আবার শুকিয়ে উঠল।’—কেন, ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের করিম সাহেবের মনোভাবের সঙ্গে ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের কোন দিকটির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকের করিম সাহেবের দায়িত্বশীলতা গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।’—মন্তব্যটি ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প’ নামক গল্পগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাড়ি দখলকারীরা থাকার সময় লুকিয়ে লুকিয়ে কেউ একজন তুলসী গাছটির গোড়ায় পানি দিত, ফলে গাছটি সতেজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পুলিশ এসে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে আর কেউ গাছটির যত্ন নেয়নি। গৃহকর্ত্রীর ছলছল চোখের কথাও তারা ভুলে যায়। পানির অভাব ও পরিচর্যার অভাবে গাছটির পাতায় আবার খয়েরি রং ধরে এবং তা শুকিয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের করিম সাহেবের মানবিক মনোভাবের সঙ্গে গল্পের তুলসী গাছের প্রতি দখলকারীদের গোপন সহানুভূতির দিকটির মিল রয়েছে। গল্পে বাড়ি দখলকারীরা তুলসী গাছ দেখে প্রথমে উপড়ে ফেলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত কেউ হাত বাড়ায়নি। পরে দেখা যায়, গাছের তলার আগাছা সাফ হয়েছে এবং কেউ লুকিয়ে গোড়ায় পানি দিচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ধর্মীয় ভেদবুদ্ধির ঊর্ধ্বে একটি মানবিক বোধ তাদের মধ্যে কাজ করেছে। উদ্দীপকেও করিম সাহেব ভিন্ন ধর্মের হয়েও তুলসী গাছটির যত্ন নিয়েছেন। তাই দুটি ক্ষেত্রেই মানবিকতা ও সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিক সঠিক, সম্পূর্ণ নয়। উদ্দীপকে করিম সাহেব সুশীল বাবুর দেশত্যাগের পরও বছরের পর বছর নিয়মিত তুলসী গাছের যত্ন নিয়েছেন। তাঁর যত্ন ছিল স্থায়ী, দায়িত্বপূর্ণ এবং প্রকাশ্য। ফলে সুশীল বাবুর ছেলে ফিরে এসে সতেজ গাছ দেখতে পায়। গল্পের চরিত্ররা তুলনায় ভিন্ন আচরণ করেছে। তারা তুলসী গাছটি উপড়ে ফেলেনি, গৃহকর্ত্রীর কথা ভেবে তাদের মনে দুর্বলতা জেগেছে এবং কেউ একজন লুকিয়ে গাছের গোড়ায় পানিও দিয়েছে। অর্থাৎ মানবিক বোধ একেবারে অনুপস্থিত ছিল না। কিন্তু সেই বোধ ছিল দুর্বল ও গোপন। মোদালেকের হুংকার, মোদাচ্ছেরের কঞ্চি চালানো এবং সাম্প্রদায়িক তর্কে তারা সেই বোধকে চাপা দিতে চেয়েছে। পুলিশ আসার পর উচ্ছেদের আতঙ্কে তারা গাছটির কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায় এবং গাছটি আবার শুকিয়ে যায়। সুতরাং গল্পের চরিত্রদের মধ্যে করিম সাহেবের মতো স্থায়ী ও সাহসী দায়িত্ববোধ ছিল না, তবে মানবিকতার সূক্ষ্ম স্পন্দন ছিল। এ কারণে মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ নয়; আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও