বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
জনাব করিম একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তিনি দেখলেন, সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত এবং দামও বেশি। কারখানা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ভাঙাচোরা। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পেতেও তাঁকে নানা জটিলতায় পড়তে হলো। তাছাড়া মাঝে মাঝে হরতাল ও অবরোধের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকে। এসব কারণে তিনি বিনিয়োগ করতে দ্বিধায় পড়েন।
- ক)(1)
ভিত্তিমূল শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
ব্যাংক ঋণ সুবিধার অপ্রতুলতা শিল্পখাতের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব করিমের সামনে যেসব অবকাঠামোগত দুর্বলতা ফুটে উঠেছে তা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত হরতাল ও অবরোধ শুধু জনাব করিমের কারখানার নয়, সমগ্র শিল্পখাতের জন্যই ক্ষতিকর- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব শিল্প অন্যান্য শিল্পের বিকাশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যেমন লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, ভারী যানবাহন শিল্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থাপনা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শিল্প, তাদের ভিত্তিমূল বা মৌলিক শিল্প (Basic Industries) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্প স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রচুর মূলধন প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় ব্যাংক ঋণের সুবিধা অপ্রতুল। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে এমন ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও কম এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাও সুষ্ঠু নয়। ফলে মূলধনের অভাবে নতুন শিল্প গড়ে ওঠে না এবং বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে ঋণসুবিধার অভাব শিল্পখাতের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দুর্বলতা ফুটে উঠেছে, যা বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রের অগ্রগতির একটি বড়ো প্রতিবন্ধকতা।
১. জ্বালানি ও শক্তি: জনাব করিম দেখেছেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত এবং দাম বেশি। পাঠ্যবই অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং এগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহে অপর্যাপ্ততা নতুন শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বড়ো প্রতিবন্ধক।
২. যোগাযোগ ব্যবস্থা: কারখানা পর্যন্ত রাস্তা ভাঙাচোরা। রাস্তাঘাট, সেতু ইত্যাদির অপ্রতুলতা ও অনুন্নত অবস্থার কারণে কাঁচামাল আনা ও পণ্য বাজারে পাঠানো ব্যাহত হয়।
৩. ঋণ সুবিধা: ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে জটিলতার বিষয়টিও অবকাঠামোর দুর্বলতার অংশ। মূলধন জোগানের জন্য ঋণ সুবিধা অর্থনৈতিক অবকাঠামোর বড়ো উপাদান, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
অতএব, উদ্দীপকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সড়ক যোগাযোগ ও ঋণসুবিধার দুর্বলতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে হরতাল ও অবরোধ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রকাশ। পাঠ্যবই অনুযায়ী সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শিল্পখাতের উন্নয়নের অনুকূল নয়। এর প্রভাব শিল্পখাতজুড়ে একটি শৃঙ্খল আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
১. উৎপাদন ব্যাহত হয়: হরতাল ও অবরোধের দিনে কারখানা বন্ধ থাকে বা কাঁচামাল ও শ্রমিক কারখানায় পৌঁছাতে পারে না। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
২. শ্রমিকের আয় কমে: উৎপাদন কমে গেলে শ্রমিকদের আয় কমে যায়, ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩. পণ্যের দাম ও চাহিদা: উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে বাজারে দ্রব্যের চাহিদা কমে এবং শিল্পমালিকদের আয়ও কমে যায়।
৪. বিনিয়োগে নিরুৎসাহ: আয় কমে যাওয়ায় এবং অনিশ্চয়তার কারণে নতুন উদ্যোগ ও বিনিয়োগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়। জনাব করিমও এ কারণেই বিনিয়োগে দ্বিধায় পড়েছেন।
এ প্রভাবগুলো কোনো একটি কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শ্রমিকের আয়হ্রাস, পণ্যের চাহিদাহ্রাস ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে সমগ্র শিল্পখাতের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। সুতরাং হরতাল ও অবরোধ শুধু জনাব করিমের নয়, সমগ্র শিল্পখাতের জন্যই ক্ষতিকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও