ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রহমত সাহেব তরুণ ও অনভিজ্ঞ হলেও জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর প্রধান সহযোগী করিম সাহেবকে তিনি অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। কিন্তু করিম সাহেব গোপনে প্রতিপক্ষ মহলের সাথে চুক্তি করেন। নির্ণায়ক সভার দিন রহমত সাহেবের সমর্থকরা জেতার কাছাকাছি পৌঁছালে করিম সাহেব তাঁকে ভুল পরামর্শ দিয়ে সভার কাজ থামিয়ে দেন এবং নিজের লোকদের নিষ্ক্রিয় রাখেন। ফলে রহমত সাহেব ক্ষমতাচ্যুত হন। করিম সাহেব সভাপতির পদ পেলেও প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় প্রতিপক্ষ মহলের হাতে এবং তিনি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ তাদের দিতে বাধ্য হন।

  1. ক)

    পলাশির যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সিরাজ-উদ-দৌলাকে কেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের করিম সাহেবের কর্মকাণ্ডে পলাশির যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের কোন কারণটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকের পরিণতি পলাশির যুদ্ধের ফলাফলের কেবল আংশিক প্রতিফলন'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ নবাব, যিনি স্বাধীনভাবে শাসন করেছেন। ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে তাঁর পরাজয়ের পর বাংলার ক্ষমতা কার্যত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। তাঁর পরে যাঁরা নবাব হন, তাঁরা ছিলেন ইংরেজদের হাতের পুতুল মাত্র। এ কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং সিরাজকে শেষ স্বাধীন নবাব বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের করিম সাহেবের কর্মকাণ্ডে পলাশির যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণ, অর্থাৎ বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা প্রতিফলিত হয়েছে। মীর জাফর ছিলেন নবাবের আস্থাভাজন সেনাপতি। অথচ তিনি গোপনে ক্লাইভ, জগৎশেঠ ও উমিচাঁদের সাথে নবাবের বিরুদ্ধে চুক্তি করেন। পলাশির যুদ্ধে নবাবের জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন মীর জাফর ও রায়দুর্লভের চক্রান্তে নবাবের সেনাবাহিনীর বিরাট অংশ যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকে। মীর জাফরের পরামর্শে নবাব যুদ্ধ বন্ধ করলে বীর সেনাপতি মোহনলালকেও যুদ্ধ ত্যাগ করতে হয় এবং নবাবের পরাজয় ঘটে। উদ্দীপকেও করিম সাহেব বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতিপক্ষের সাথে আঁতাত করেন এবং নির্ণায়ক মুহূর্তে ভুল পরামর্শ ও নিজের লোকদের নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে রহমত সাহেবের পরাজয় ঘটান। তাই উদ্দীপকে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বিশ্বাসঘাতকতায় রহমত সাহেবের পতন, করিম সাহেবের নামমাত্র ক্ষমতা লাভ এবং প্রতিপক্ষকে বিপুল অর্থ প্রদানের কথা আছে। এগুলো পলাশির যুদ্ধের কয়েকটি ফলাফলের সাথে মেলে, কিন্তু যুদ্ধটির সামগ্রিক ফলাফল এর চেয়ে অনেক ব্যাপক ছিল বলে মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের সাথে মিলে যাওয়া ফলাফল: ১. নবাবের পতন ও মৃত্যু: পলাশিতে পরাজিত সিরাজ-উদ-দৌলা পালানোর পথে ধরা পড়েন এবং মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন। ২. নামমাত্র নবাব: ইংরেজদের সহায়তায় মীর জাফর নবাব হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে থাকে; তিনি ছিলেন পুতুল নবাব। ৩. অর্থ প্রদান: কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি ইংরেজদের এক কোটি টাকা ও চব্বিশ পরগনা জেলা দান করেন এবং ক্লাইভসহ কর্মচারীদের বিপুল পুরস্কার দেন। উদ্দীপকে অনুপস্থিত ফলাফল: ১. রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: পলাশির যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং এটিই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূত্রপাত ঘটায়, যা বক্সারের যুদ্ধে সুদৃঢ় হয়। ২. অর্থনৈতিক বিপর্যয়: কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের ফলে দেশীয় বণিকদের পতন ঘটে এবং বাংলার অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়। ৩. ফরাসি শক্তির বিলুপ্তি: এ যুদ্ধের জয়ে ইংরেজরা ফরাসি শক্তির উত্থানের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে। ৪. বণিকের মানদণ্ড রাজদণ্ডে রূপান্তর: কোম্পানি বণিক থেকে শাসকে পরিণত হয়ে ক্রমে সমগ্র ভারত দখল করে। উদ্দীপকে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের কোনো ইঙ্গিত নেই। তাই উদ্দীপকের পরিণতি পলাশির যুদ্ধের ফলাফলের কেবল আংশিক প্রতিফলন, মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও