বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্রী রুমানা প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়। এবার তার ইতিহাস শিক্ষক বললেন, ‘একটি ঘোষণার প্রতিবাদে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা থেকে ছাত্ররা দশজন করে মিছিল বের করেছিল। পুলিশের গুলিতে কয়েকজন প্রাণ হারান। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি আজ বিশ্বজুড়ে।’ রুমানার সহপাঠী প্রীতম চাকমা জানায়, তাদের এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে নিজের মাতৃভাষা চাকমা ভাষাতেও পড়ার সুযোগ পায়।

  1. ক)

    ইউনেস্কো কত সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?

    (1)
  2. খ)

    ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    শিক্ষকের বর্ণিত ঘটনাটি পূর্ববাংলার ভাষা আন্দোলনের কোন দিনের ঘটনাকে নির্দেশ করে? ঘটনাটির পটভূমিসহ বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রীতমের ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং রুমানার দিবস উদ্‌যাপন—এ দুইয়ের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষার প্রতি বাংলাদেশের শ্রদ্ধার যে পরিচয় ফুটে ওঠে, তা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে জীবন দেন। ১৯৫৩ সাল থেকে দিনটি আমাদের দেশে শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মাতৃভাষার জন্য এমন আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই ২১শে ফেব্রুয়ারিকে এই নামে ডাকা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের বর্ণিত ঘটনাটি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে নির্দেশ করে।

    পটভূমি: ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর মতো উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ৩০শে জানুয়ারি ছাত্রসমাজ ধর্মঘট পালন করে এবং ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঘটনা: ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকার ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করে। নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সভা শেষে দশজন করে মিছিল বের হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়। এতে আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, আবদুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমেদ শহিদ হন এবং অনেকে আহত হন। পরদিন শোক র‍্যালিতে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রুমানার শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে জাতি সেই আত্মত্যাগ স্মরণ করে। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। পৃথিবীর ৭০০০ এর বেশি ভাষার মানুষ এর ফলে নিজেদের ভাষার মর্ম নতুনভাবে বুঝতে শিখেছে। এভাবে বাংলাদেশ নিজের মাতৃভাষার মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বের সব ভাষার মর্যাদাকেও তুলে ধরেছে।

    প্রীতমের ঘটনা দেখায়, বাংলাদেশ কেবল নিজের ভাষা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমাদের দেশে বাংলাভাষীর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির নৃগোষ্ঠী রয়েছে। সরকার সকল নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট এবং মাতৃভাষায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। চাকমা ভাষায় পড়ার সুযোগ তারই উদাহরণ।

    সুতরাং, ভাষাশহিদদের স্মরণ এবং নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ—দুটিই একই চেতনার প্রকাশ। ভাষার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করা জাতি হিসেবে বাংলাদেশ নিজের ও অন্যের মাতৃভাষার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, এ কথা যুক্তিসংগতভাবেই বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও