সাহিত্য পাঠ • নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

সুন্দরবন-ঘেঁষা এক গ্রামে প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকেরা গরিব চাষিদের জমি দখল করছিল। ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার মাস্টার প্রতি সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে বলতেন, “এই নীরবতাই আমাদের সর্বনাশ। একদিন এই গ্রাম জাগবেই; সেদিন সব দখলদার ভেসে যাবে।” তাঁর এই বিশ্বাস ধীরে ধীরে সবার মনে সাহস জোগাতে লাগল।

  1. ক)

    ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতাটি কোন কাব্যনাটকের অংশ?

    (1)
  2. খ)

    “সমস্ত নদীর অশ্রু অবশেষে ব্রহ্মপুত্রে মেশে।”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    আনোয়ার মাস্টারের বিশ্বাসের সঙ্গে কবিতার কোন চরণের মিল রয়েছে? কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “আনোয়ার মাস্টারের আশাবাদ বাস্তবে রূপ নিতে পারে, এ বিশ্বাস কবিতার নুরলদীন-চেতনাতেই নিহিত।”—উক্তিটি কবিতার আলোকে যুক্তি সহ বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাটকের প্রস্তাবনা অংশ থেকে নেওয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ছোট ছোট নদী যেমন শেষ পর্যন্ত বিশাল ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মেশে, তেমনি সাধারণ মানুষের বিচ্ছিন্ন দুঃখ-বেদনা একত্র হয়ে জাতির সম্মিলিত বেদনায় পরিণত হয়। এখানে অশ্রু মানে নিপীড়িত মানুষের কান্না ও যন্ত্রণা। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, এই সম্মিলিত বেদনাই একসময় প্রবল প্রতিবাদের স্রোত হয়ে উঠবে। নুরলদীনের কথাও তাই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আনোয়ার মাস্টারের বিশ্বাসের সঙ্গে কবিতার শেষাংশের চরণগুলোর মিল রয়েছে। বিশেষ করে ‘নুরলদীনেরও কথা যেন সারা দেশে / পাহাড়ি ঢলের মতো নেমে এসে সমস্ত ভাসায়’—এই চরণে সেই মিল স্পষ্ট।

    কবিতায় কবি বিশ্বাস করেন, অভাগা মানুষ আবার জেগে উঠবে এবং নুরলদীনের ডাকে সাড়া দিয়ে সব অন্যায়কে পাহাড়ি ঢলের মতো ভাসিয়ে নেবে। এখানে দীর্ঘ নীরবতার পর গণজাগরণের আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে।

    উদ্দীপকে আনোয়ার মাস্টারও নীরবতাকে সর্বনাশ বলেছেন এবং বিশ্বাস করেন, একদিন গ্রাম জাগবে ও সব দখলদার ভেসে যাবে। জাগরণের মাধ্যমে অন্যায় ভাসিয়ে নেওয়ার এই আশাবাদ কবিতার চরণটির ভাবের সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কারণ কবিতায় নুরলদীনের ঐতিহাসিক ভূমিকাই এ বিশ্বাসের ভিত্তি।

    কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, নুরলদীন একসময় রংপুরে ডাক দিয়েছিলেন এবং সেই ডাকে মানুষ জেগে উঠেছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে, নীরবতা চিরস্থায়ী নয়; শোষিত মানুষও সংঘবদ্ধ হলে সামন্ত ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। কবি তাই বিশ্বাস করেন, সংকটের কালে নুরলদীন আবার ডাক দেবেন এবং মানুষ আবার জেগে উঠবে। এই আশাবাদ কবিতার শেষ অংশে ‘জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?’ ডাকে স্পষ্ট।

    উদ্দীপকে আনোয়ার মাস্টার দখলদারদের ভয়ে নীরব গ্রামবাসীর মধ্যে সেই একই বিশ্বাস ছড়াচ্ছেন। তাঁর কথা মানুষের মনে সাহস জোগাচ্ছে। কবিতার নুরলদীন যেমন মানুষের ঘুম ভাঙানোর প্রতীক, আনোয়ার মাস্টারও তেমনি জাগরণের প্রেরণা। নুরলদীনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে এ ধরনের বিশ্বাস কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

    তাই বলা যায়, আনোয়ার মাস্টারের আশাবাদ কবিতার নুরলদীন-চেতনার ওপরই প্রতিষ্ঠিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও