গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • শিশুর বিকাশ ও পারিবারিক পরিবেশ

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

নাসরিন ও আনিস দম্পতির প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই নাসরিন শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ান। আনিস অফিস থেকে ফিরে স্ত্রীর জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং গৃহস্থালির কাজেও সাহায্য করেন। রাতে শিশুটি কাঁদলে নাসরিন সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোলে নেন। পাশের ফ্ল্যাটের রিনা তার শিশুকে জন্মের পর কয়েক দিন কৃত্রিম দুধ খাইয়েছেন। কাজের চাপে তিনি শিশুর কান্নায় প্রায়ই সাড়া দিতে পারেন না এবং শিশুকে আলাদা ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। রিনার শিশুটি তুলনামূলকভাবে বেশি কান্নাকাটি করে ও অস্থির থাকে।

  1. ক)

    শালদুধ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শিশুর কান্নায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাড়া দেওয়া প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শিশুর সাথে বন্ধন তৈরিতে আনিসের কাজগুলোর পরোক্ষ ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাসরিন ও রিনার আচরণের ফলে তাদের শিশুদের বিকাশে কীরূপ পার্থক্য দেখা দেবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মায়ের বুকের প্রথম দুধকে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম বলা হয়। এটি শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভাষা বিকাশের আগে শিশু ক্ষুধা ও শারীরিক অসুবিধার কথা কান্নার মাধ্যমেই জানায়। কান্নায় দ্রুত সাড়া দিয়ে খাবার দিলে বা কষ্ট দূর করলে শিশু আরাম পায়। এতে মা-বাবার প্রতি শিশুর বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাড়া না পেলে শিশুর মধ্যে অবিশ্বাস, অনাস্থা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এবং সে বেশি কান্নাকাটি করে। তাই কান্নায় দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়ের জন্য সহায়ক পরিবেশ দরকার হয়। এ পরিবেশ তৈরিতে বাবার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। উদ্দীপকের আনিস তা পালন করছেন। ১. পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা: আনিস নাসরিনের জন্য পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করেন। এতে মা সুস্থ থাকেন এবং শিশুকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। ২. গৃহস্থালির কাজে সহায়তা: তিনি গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করায় মায়ের ক্লান্তি ও কাজের চাপ কমে। ফলে মা শিশুকে বেশি সময় দিতে পারেন এবং মা ও শিশু একসাথে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পায়। এভাবে আনিস সরাসরি শিশুকে না দেখেও পরোক্ষভাবে সন্তানের সাথে বন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মা-শিশুর বন্ধন তৈরির ধাপগুলো হলো জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ দেওয়া, কান্নায় সাড়া দেওয়া, কাছে নিয়ে ঘুমানো ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। নাসরিন বুকের দুধ খাওয়ানো ও কান্নায় সাড়া দেওয়ার ধাপগুলো মানলেও রিনা মানছেন না, তাই দুই শিশুর বিকাশে পার্থক্য দেখা দেবে। ১. খাওয়ানোর ক্ষেত্রে: নাসরিনের শিশু জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ পেয়েছে। শালদুধ এন্টিবডি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রোগ প্রতিরোধ করে, মিকোনিয়াম পরিষ্কার করে এবং জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু বের হতে সাহায্য করে। দুধ খাওয়ানোর সময় অক্সিটোসিন নির্গত হওয়ায় মা-শিশুর ভালোবাসার বন্ধনও দৃঢ় হয়। রিনার শিশু কৃত্রিম দুধ খাওয়ায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ২. কান্নায় সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে: নাসরিন সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন বলে তার শিশুর মধ্যে মা-বাবার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হবে। রিনার শিশু সময়মতো সাড়া না পাওয়ায় তার মধ্যে অনাস্থা ও নিরাপত্তাহীনতা জন্মাচ্ছে, তাই সে বেশি কাঁদে ও অস্থির থাকে। ৩. ঘুমানোর ক্ষেত্রে: শিশুকে আলাদা ঘরে ঘুম পাড়ালে রাতে মা তার চাহিদা বুঝতে পারেন না। কাছে নিয়ে ঘুমালে শিশু নিরাপদ বোধ করে ও মায়ের উপস্থিতি পায়। রিনার শিশু এ নিরাপত্তা পাচ্ছে না। ৪. সার্বিক বিকাশ: প্রথম কয়েক বছরের সহায়ক পরিবেশে শিশু বুদ্ধিমান, সামাজিক ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। সুতরাং নাসরিনের শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় বিকাশ রিনার শিশুর তুলনায় ভালো হবে। রিনা আচরণ বদলালে তার শিশুও উপকৃত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও