সহপাঠ • টীকা ও চরিত্র-পরিচিতি

সহপাঠ প্রশ্ন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে একটি সেক্টরের ক্যাপ্টেন রফিক ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা। শত্রু শিবিরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গুরুতর আহত হন, তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। তাঁর শহিদ হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কামাল বিদেশি এক সহযোদ্ধাকে নিয়ে বীরবিক্রমে লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু ঐ অভিযানের অধিকাংশ কর্মকর্তা শত্রুর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকেন। উচ্চপদস্থ দুজন ভুল পরামর্শ দিয়ে অভিযান বন্ধ করিয়ে দিলে কামাল শত্রুর হাতে ধরা পড়েন এবং তাঁকে হত্যা করা হয়।

  1. ক)

    মোহনলাল কোন অঞ্চলের মানুষ ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মীরমদানকে ‘অকুতোভয় বীর যোদ্ধা’ বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ক্যাপ্টেন রফিক ও লেফটেন্যান্ট কামাল ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “বীরত্বের অভাবে নয়, বিশ্বাসঘাতকদের কারণেই সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটেছিল।”— উদ্দীপক ও টীকা-অংশের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোহনলাল ছিলেন কাশ্মিরের মানুষ (কাশ্মিরি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার অধিকাংশ সেনাপতি বিশ্বাসঘাতকতা করলেও মীরমদান ছিলেন নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি। তিনি যুদ্ধ করতে করতে ইংরেজ শিবিরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ঊরুতে গোলার আঘাত লাগে। তবুও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে লড়ে যাওয়ার কারণেই তাঁকে অকুতোভয় বীর যোদ্ধা বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ক্যাপ্টেন রফিক ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরমদান এবং লেফটেন্যান্ট কামাল মোহনলাল চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। পলাশির যুদ্ধে মীরমদান ইংরেজ শিবিরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ঊরুতে গোলার আঘাত পান এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধ করেন। রফিকও আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে শহিদ হন। মীরমদানের মৃত্যুর পর মোহনলাল ফরাসি যোদ্ধা সাঁফ্রেকে সঙ্গে নিয়ে বীরদর্পে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। কিন্তু মিরজাফর ও রায়দুর্লভের পরামর্শে নবাব যুদ্ধ বন্ধ করার নির্দেশ দিলে তিনি বন্দি হন এবং ক্লাইভের নির্দেশে নিহত হন। উদ্দীপকে বিদেশি সহযোদ্ধাকে নিয়ে কামালের লড়াই, ভুল পরামর্শে অভিযান বন্ধ এবং ধরা পড়ে নিহত হওয়া মোহনলালের পরিণতিরই অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “বীরত্বের অভাবে নয়, বিশ্বাসঘাতকদের কারণেই সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটেছিল”—উক্তিটি যথার্থ।

    পলাশির যুদ্ধে নবাবের পক্ষে বীরত্বের অভাব ছিল না। সেনাপতি মীরমদান ঊরুতে গোলার আঘাত পেয়েও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর মোহনলাল ফরাসি যোদ্ধা সাঁফ্রেকে নিয়ে বীরদর্পে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। উদ্দীপকে ক্যাপ্টেন রফিক ও লেফটেন্যান্ট কামালও একইভাবে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছেন।

    কিন্তু নবাবের অধিকাংশ সেনাপতি ক্লাইভের উৎকোচ ও প্রলোভনে বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। সেনাপতি মিরজাফর কোরান ছুঁয়ে নবাবের পক্ষে যুদ্ধের শপথ নিয়েও বিশ্বাসঘাতকতা করেন। মিরজাফর ও রায়দুর্লভ অন্যায়ভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার পরামর্শ দেন এবং তাঁদের কুপরামর্শে নবাব মোহনলালকে যুদ্ধ বন্ধ করার নির্দেশ দিলে ক্লাইভের সৈন্যরা প্রায় বিনা যুদ্ধেই জয়লাভ করে। উদ্দীপকেও অধিকাংশ কর্মকর্তা শত্রুর সুবিধা নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকে এবং দুজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ভুল পরামর্শে অভিযান বন্ধ করিয়ে দেয়, যার ফলে সাহসী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়।

    সুতরাং নবাবের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র ও অসহযোগিতা, বীরদের বীরত্বের ঘাটতি নয়। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও