সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
ফজরের আগে রহিম সাহেব মসজিদের সিঁড়িতে বসে তসবিহ পড়ছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, অপরিচিত একদল অস্ত্রধারী লোক গ্রামের স্কুলের দিকে যাচ্ছে। কথাটা প্রথম যে মুসল্লিকে বললেন, সে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল, 'এই গ্রামে ওরা আসবে কেন? আপনার চোখের ভুল।' রহিম সাহেব ভয়ে বারবার দোয়া পড়তে লাগলেন, অথচ নিজের চোখকে অবিশ্বাস করতেও পারছিলেন না।
- ক)(1)
ইমাম সাহেব আজান দেওয়ার আগে কতবার সুরা ইয়াসিন পড়েন?
- খ)(2)
ইমাম সাহেব নীলগঞ্জ মসজিদের ভেতরে ঢোকেন না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের পরিস্থিতির সঙ্গে 'নীলগঞ্জে মিলিটারির আগমন' অংশের ইমাম সাহেবের পরিস্থিতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ইমাম সাহেবের বারবার দোয়া পড়া কেবল ধর্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, এটি ভয়েরও প্রকাশ'- উদ্দীপক ও উপন্যাসাংশের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইমাম সাহেব আজান দেওয়ার আগে তিনবার সুরা ইয়াসিন পড়েন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নীলগঞ্জ মসজিদ সম্পর্কে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, সেখানে জিন নামাজ পড়ে। অনেকেই নাকি জিনকে নামাজ পড়তে দেখেছে। ইমাম সাহেব নিজে কখনো দেখেননি, তবু এই প্রবাদের কারণে তাঁর মনে ভয় কাজ করে। তাই মিলিটারির ভয়ে ভেতরে লুকানোর কথা ভাবলেও তিনি মসজিদে ঢোকেন না। এতে গ্রামীণ মানুষের কুসংস্কারজনিত ভীতি প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিম সাহেব ও উপন্যাসের ইমাম সাহেবের পরিস্থিতির সাদৃশ্য হলো দুজনেই সবার আগে বিপদের আভাস দেখেছেন, কিন্তু অন্যদের অবিশ্বাসের মুখে পড়েছেন। উদ্দীপকে রহিম সাহেব ফজরের আগে মসজিদের সিঁড়িতে বসে অস্ত্রধারী লোকদের স্কুলের দিকে যেতে দেখেন। উপন্যাসেও ইমাম সাহেব সুরা ইয়াসিন পড়তে পড়তে মিলিটারির দলকে স্কুলঘরের দিকে যেতে দেখেন। রহিম সাহেবের কথা মুসল্লি উড়িয়ে দেয়; তেমনি মতি মিয়া ইমাম সাহেবের কথাকে 'চউক্ষের ধাদ্ধা' বলে উড়িয়ে দেয়। দুজনই ভয়ে দোয়া পড়েন এবং নিজের দেখা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। এখানেই দুটি পরিস্থিতির সাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ইমাম সাহেব ধর্মপ্রাণ মানুষ, কিন্তু মিলিটারি আসার পর তাঁর দোয়া পড়ায় বিশ্বাসের পাশাপাশি তীব্র ভয়ও ফুটে উঠেছে। ১. বিশ্বাসের দিক: উপন্যাসে ইমাম সাহেব প্রতিদিন আজানের আগে সুরা ইয়াসিন পড়েন এবং দোয়া ইউনুসকে 'খুব কাজের' দোয়া মনে করেন। উদ্দীপকের রহিম সাহেবের তসবিহ পড়াও ধর্মচর্চারই অংশ। ২. ভয়ের দিক: মিলিটারির ডাক পেয়ে ইমাম সাহেবের কপালে ঘাম জমে, তিনি আয়াতুল কুরসি, তিনবার দোয়া ইউনুস ও 'ইয়া মুকাদ্দমু' পড়ে ডান পা আগে ফেলেন। এটি বিপদ থেকে বাঁচার আকুলতারই প্রকাশ। উদ্দীপকেও রহিম সাহেব ভয়ে বারবার দোয়া পড়েন। ৩. অসহায়তা: ইমাম সাহেব প্রকাশ্যে বসে থাকতে ভয় পান, নামাজ ছেড়ে ঘরে ফিরতে চান; অথচ মসজিদের ভেতরেও ঢুকতে সাহস পান না। ফলে ধর্মীয় আশ্রয়ই তাঁর একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায়, ইমাম সাহেবের দোয়া পড়া ভয় ও বিশ্বাসের মিলিত প্রকাশ, তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও