বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

স্বামী পরিত্যক্তা রহিমা বেগমকে অনেকে আবার বিয়ে করতে পরামর্শ দিয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিনি একমাত্র ছেলে সুমনকে স্কুলে পড়ান। কত দিন তিনি নিজে না খেয়ে ছেলেকে খাইয়েছেন আর বলেছেন, “আমার ক্ষিদে নেই।” সুমন এখন দশম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেকে মানুষ করাই তাঁর জীবনের একমাত্র স্বপ্ন।

  1. ক)

    রসিক বাঘ অভাগী ও কাঙালীকে ফেলে কোথায় চলে গিয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    “ছেলের হাতের আগুন! সে ত সোজা কথা নয়!”— কাঙালীর মা কেন এ কথা ভেবেছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমা বেগমের আচরণে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর যে বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের রহিমা বেগম অভাগীর চরিত্রের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না”— মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রসিক বাঘ অন্য বাঘিনীকে নিয়ে অভাগী ও কাঙালীকে ফেলে গ্রামান্তরে উঠে গিয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুখুয্যে-গিন্নির শবদাহ দেখে কাঙালীর মা ভেবেছিল, ছেলের হাতের আগুন পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। সে বিশ্বাস করত, স্বামী, পুত্র, কন্যা ও পরিজনে ভরা সংসার রেখে ছেলের হাতে মুখাগ্নি পেলেই মানুষ রথে চড়ে স্বর্গে যায়। দরিদ্র অভাগীর কাছে এই সৌভাগ্য ছিল অনেক বড়। তাই সে কথাটি ভেবে আবেগাপ্লুত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমা বেগমের আচরণে অভাগীর সন্তানের জন্য আত্মত্যাগী মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। গল্পে স্বামী পরিত্যক্তা অভাগী পুনর্বিবাহের প্রস্তাব ও নানা উৎপাত-উপদ্রব উপেক্ষা করে শিশুপুত্র কাঙালীকে নিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছে। সে নিজে অভুক্ত থেকে ছেলের জন্য ভাত রেখে দিত এবং বলত, “বেলা গড়িয়ে গেছে, এখন আর ক্ষিদে নেই।” উদ্দীপকেও রহিমা বেগম আবার বিয়ে করেননি, অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে পড়িয়েছেন এবং নিজে না খেয়ে ছেলেকে খাইয়ে বলেছেন, “আমার ক্ষিদে নেই।” এভাবে উভয়ের মধ্যেই সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিঃস্বার্থ ত্যাগ প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের রহিমা বেগম অভাগীর চরিত্রের একটি দিক, অর্থাৎ সন্তানের জন্য ত্যাগের দিকটি ধারণ করলেও অভাগীর সম্পূর্ণ চরিত্র ধারণ করেননি।
    ১. ত্যাগের মিল: দুজনেই স্বামী পরিত্যক্তা, পুনর্বিবাহে অসম্মত এবং ছেলের জন্য নিজের ক্ষুধা ভুলে যান। এই অংশে উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের সাদৃশ্য আছে।
    ২. সামাজিক বঞ্চনার অভাব: গল্পে অভাগী দুলে সম্প্রদায়ের মেয়ে। জাতিভেদের কারণে সে সমাজে অবহেলিত। উদ্দীপকে এ ধরনের বঞ্চনার কোনো উল্লেখ নেই।
    ৩. স্বর্গলাভের বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা: অভাগী বিশ্বাস করত ছেলের হাতের আগুন পেলে সে স্বর্গে যাবে। মৃত্যুর সময় সে স্বামীর পায়ের ধুলো ও আলতা-সিঁদুরও চেয়েছিল। রহিমা বেগমের এরূপ কোনো সংস্কার বা আকাঙ্ক্ষা উদ্দীপকে নেই।
    ৪. করুণ পরিণতি: অভাগী বিনা চিকিৎসায় মারা যায় এবং তার সৎকারের কাঠটুকুও জোটে না। উদ্দীপকে রহিমা বেগমের স্বপ্ন সামনে এগিয়ে চলছে।
    অতএব রহিমা বেগম কেবল অভাগীর মাতৃত্বের ত্যাগের দিকটির প্রতিনিধি; তার সামগ্রিক চরিত্রের নন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও