জীববিজ্ঞান • জীবকোষ ও টিস্যু

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

তানিয়া স্কুলের ল্যাবে একটি যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটি কোষের স্লাইড দেখছে। যন্ত্রটির আইপিসের বিবর্ধন ক্ষমতা 10x এবং নোজপিসে তিনটি অবজেক্টিভ আছে: 10x, 40x ও 100x। সে কোষটির নিউক্লিয়াস ও কোষঝিল্লি দেখতে পেলেও সাইটোপ্লাজমের অঙ্গাণুগুলো আলাদাভাবে দেখতে পেল না। শিক্ষক বললেন, অঙ্গাণু দেখতে হলে ভিন্ন ধরনের একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দরকার।

  1. ক)

    নোজপিস কী?

    (1)
  2. খ)

    আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সাইটোপ্লাজমের অঙ্গাণুগুলো আলাদা করে দেখা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    তানিয়ার যন্ত্রে লো পাওয়ার ও হাই পাওয়ার অবজেক্টিভে (10x ও 40x) বস্তুটি কত গুণ বিবর্ধিত দেখাবে নির্ণয় করো এবং স্লাইড পর্যবেক্ষণ কোন অবজেক্টিভ দিয়ে শুরু করতে হবে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানিয়ার অঙ্গাণু দেখার জন্য শিক্ষকের নির্দেশিত যন্ত্রটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বডি টিউবের নিচের দিকের যে ঘূর্ণনশীল অংশে অবজেক্টিভ লেন্সগুলো লাগানো থাকে, তাকে নোজপিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান আলো ব্যবহৃত হয়, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটার। ব্যবহৃত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেকের চেয়ে ছোট বস্তু ফোকাস করা সম্ভব নয়। তাই সবচেয়ে উন্নত আলোক অণুবীক্ষণেও ২০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে ছোট বস্তু আলাদা করে দেখা যায় না। অঙ্গাণুগুলো এর চেয়ে ছোট বলে আলাদা করে দেখা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোট বিবর্ধন = আইপিসের বিবর্ধন × অবজেক্টিভের বিবর্ধন।

    লো পাওয়ার অবজেক্টিভে (10x): মোট বিবর্ধন = 10×10=10010 \times 10 = 100 গুণ।
    হাই পাওয়ার অবজেক্টিভে (40x): মোট বিবর্ধন = 10×40=40010 \times 40 = 400 গুণ।

    পর্যবেক্ষণ শুরু করার নিয়ম: স্লাইডটি মঞ্চের ক্লিপ দিয়ে এঁটে নোজপিস ঘুরিয়ে প্রথমে কম পাওয়ারের (লো পাওয়ার) অবজেক্টিভ স্লাইড বরাবর বসাতে হয়। এরপর প্রথমে কোর্স এবং পরে ফাইন অ্যাডজাস্টমেন্ট নব ঘুরিয়ে বস্তুটি ফোকাসে আনতে হয়। উচ্চ পাওয়ারের দরকার হলে শিক্ষকের সহায়তায় নোজপিস ঘুরিয়ে হাই পাওয়ার অবজেক্টিভ বসাতে হয়। তাই পর্যবেক্ষণ লো পাওয়ার অবজেক্টিভ দিয়ে শুরু করতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষক তানিয়াকে অঙ্গাণু দেখার জন্য ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহারের কথা বলেছেন। এর যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমাবদ্ধতা: বিবর্ধনে ব্যবহৃত তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হয়, তত ছোট বস্তু বিবর্ধিত করা সম্ভব হয়। তানিয়ার যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটার, ফলে ২০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে ছোট বস্তু দেখা যায় না। তাই সে শুধু নিউক্লিয়াস ও কোষঝিল্লি দেখতে পেয়েছে।
    ২. ইলেকট্রন তরঙ্গের সুবিধা: ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আলোর বদলে ইলেকট্রন তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অনেক ছোট করা সম্ভব। ফলে কোষের ভিতরের ক্ষুদ্র অঙ্গাণুগুলো স্পষ্ট দেখা যায়।
    ৩. লেন্সের পার্থক্য: কাচের লেন্সের বদলে এতে শক্তিশালী তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়, যা ইলেকট্রন স্রোতের গতিপথ বাঁকিয়ে দেয়, যেমন কাচ আলোকে বাঁকায়।
    ৪. ছবি দেখার উপায়: ইলেকট্রন তরঙ্গ দিয়ে তৈরি ছবি সরাসরি চোখে দেখা যায় না। যন্ত্রের সাথে যুক্ত কম্পিউটার সেই অদৃশ্য ছবিকে দেখার উপযোগী ছবিতে পরিণত করে মনিটরে দেখায়।

    অতএব আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা দূর করে অঙ্গাণু দেখার জন্য ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রই যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও