গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
হাবিব সাহেবের বয়স ৫২ বছর। তার বাবার ডায়াবেটিস ছিল। সারাদিন অফিসে বসে কাজ করেন এবং তার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি পরীক্ষায় তার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। তার দৈনিক খাবার: সকালে চিনি দিয়ে চা ও দুটি সাদা আটার রুটি; দুপুরে প্রচুর সাদা চালের ভাত, করলা ভাজি, লাউয়ের তরকারি ও শসা; বিকেলে কেক ও কোমল পানীয়; রাতে ডাল, মাছ ও এক টুকরো মিষ্টি। তিনি প্রায়ই কোনো বেলার খাবার বাদ দেন এবং ব্যায়াম করেন না।
- ক)(1)
কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়?
- খ)(2)
ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময় করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নিয়ম অনুযায়ী হাবিব সাহেবের খাবারগুলো ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে, হিসাব করে খেতে হবে ও পরিহার করতে হবে— এই তিন ভাগে ভাগ করে দেখাও।
- ঘ)(4)
হাবিব সাহেবের জীবনযাপন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইনসুলিন নামক হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একবার ডায়াবেটিস হলে তা একেবারে সেরে যায় না। তবে চিকিৎসার নিয়ম মেনে চললে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর জন্য খাদ্য ব্যবস্থাপনা, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম, যথাযথ ওষুধ গ্রহণ ও রোগ সম্পর্কে শিক্ষা, এই চারটি বিষয়ে শৃঙ্খলা মানতে হয়। এগুলো মেনে চললে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য গ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী হাবিব সাহেবের খাবারগুলো নিচের তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১. ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে: আঁশযুক্ত খাবার যা রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায় না, যেমন করলা, লাউ ও শসা।
২. হিসাব করে খেতে হবে: ভাত, রুটি, ডাল ও মাছ। এগুলো বেশি খেলে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। সাদা চাল ও সাদা আটার চেয়ে লাল চালের ভাত ও ভূষিসহ আটার রুটি বেশি উপকারী।
৩. পরিহার করতে হবে: যে খাবার খেলে দ্রুত গ্লুকোজ বাড়ে, যেমন চিনি দিয়ে চা, কেক, কোমল পানীয় ও মিষ্টি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য শৃঙ্খলা মেনে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাবিব সাহেবের জীবনযাপন সেই নিয়মগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
১. খাদ্য ব্যবস্থাপনা: তিনি চিনি, কেক, কোমল পানীয় ও মিষ্টি খান, যা পরিহার করা উচিত। সাদা চাল ও সাদা আটা বেশি খান, যা গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ায়।
২. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার: ডায়াবেটিসে নিজের ইচ্ছামতো কোনো বেলার খাবার বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি প্রায়ই খাবার বাদ দেন।
৩. ব্যায়াম না করা: ব্যায়ামে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে, কিন্তু তিনি ব্যায়াম করেন না এবং সারাদিন বসে থাকেন।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ: তার ওজন বেশি, অথচ ওজন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। বংশগত কারণ ও অতিরিক্ত ওজন তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
সুতরাং, তাকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ গ্রহণ ও রোগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। নইলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও