সাহিত্য পাঠ • আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বর্ষাকালে সকালে মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বৈঠা ফেলে তালে তালে গান গেয়ে নৌকা প্রতিযোগিতায় নামে। সন্ধ্যায় ঘাটে ঘাটে বাঁধা বড় নৌকায় একজন কিশোর মেয়ে সেজে নেচে নেচে প্রণয়ের গান গায়। এই আয়োজনে হিন্দু-মুসলমান সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসে আনন্দ উপভোগ করে। উৎসব শেষে সবাই হাসিমুখে ঘরে ফেরে।

  1. ক)

    সারিগান কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘নাও দৌড়ইতাম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার কোন কোন লোকসংগীতের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার আনন্দময় জীবনের পূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠেনি”— মন্তব্যটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সারিগান একপ্রকার কর্মগীতি। নৌকা বেয়ে যাওয়ার সময় মাঝিরা সম্মিলিতভাবে সারিবদ্ধ হয়ে এই গান গায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নাও দৌড়ইতাম’ বলতে নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। নদীমাতৃক গ্রাম-বাংলায় বর্ষাকালে এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। কবি অতীতের স্মৃতিচারণায় বলেছেন, সারিগান গাইতে গাইতে তাঁরা গ্রামের নওজোয়ানরা মিলে নৌকা বাইচে নামতেন। এটি গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও সম্মিলিত উৎসবের একটি প্রধান অনুষঙ্গ ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার সারিগান ও ঘাটুগানের ইঙ্গিত রয়েছে। উদ্দীপকে মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বৈঠা ফেলে তালে তালে গান গেয়ে নৌকা চালায়। এটি কবিতার ‘গাইয়া সারিগান নাও দৌড়ইতাম’ চরণের সারিগানকে নির্দেশ করে। সারিগান একপ্রকার কর্মগীতি, যা নৌকা বাওয়ার সময় মাঝিরা সম্মিলিতভাবে গায়। আবার উদ্দীপকে বর্ষাকালে বড় নৌকায় কিশোর মেয়ে সেজে নেচে নেচে প্রণয়ের গান গাইছে। এটি ঘাটুগানের বৈশিষ্ট্য। ঘাটুগান ময়মনসিংহ ও সিলেটের ভাটি অঞ্চলে বর্ষাকালে নৌকায় পরিবেশিত প্রণয়-গীতি, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র মেয়ে সেজে নাচা কিশোরটিকে ঘাটু বলা হয়। সুতরাং উদ্দীপকে সারিগান ও ঘাটুগানের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার আনন্দময় জীবনের পূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠেনি”— মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে হাওর অঞ্চলের বর্ষাকালীন নৌকা বাইচ, সারিগান ও ঘাটুগানের আনন্দ এবং হিন্দু-মুসলমানের একসঙ্গে উৎসব উপভোগের চিত্র আছে। কবিতার আনন্দময় জীবনের এই অংশটুকু উদ্দীপকে বিদ্যমান। কিন্তু কবিতায় অতীত জীবনের সুন্দর দিকগুলো আরও বহুমাত্রিক। সেখানে বাউলা গান, গাজির গান ও হিন্দু বাড়িতে যাত্রাগানের নিমন্ত্রণে সবার যোগদানের কথা আছে। এছাড়া কবিতায় সামাজিক বিচারব্যবস্থার কথা এসেছে, যেখানে বিবাদ ঘটলে পঞ্চাইতের বিচারে গরিব-কাঙালও ন্যায়বিচার পেত। মানুষ ছিল সরল ও ধর্মবলে বলীয়ান, বড়লোক হওয়ার উন্মাদনা তাদের ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা, কবিতায় এই সুন্দর অতীতের বিপরীতে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা এবং কবির স্মৃতিকাতরতা ও দিশাহীনতার সুর রয়েছে। উদ্দীপকে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানুষের নির্লোভ চরিত্র, যাত্রাগান বা গাজির গানের প্রসঙ্গ এবং কবির বেদনাবোধ অনুপস্থিত। অতএব উদ্দীপকটি কবিতার কেবল সাংস্কৃতিক ও উৎসবমুখর দিকটিকে ধারণ করেছে, আনন্দময় জীবনের পূর্ণ চিত্র নয়। মন্তব্যটি তাই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও