সাহিত্য পাঠ • প্রতিদান

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাই করিম সবার সামনে রহিমকে অপমান করে এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। রহিম প্রথম কয়েক মাস ক্ষোভে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি। পরে ঈদের দিন সে মিষ্টি নিয়ে করিমের বাড়িতে যায় এবং দুই ভাইয়ের মিলন ঘটে। গ্রামবাসী বলে, “রহিম নিজে এগিয়ে না গেলে এ ফাটল কখনো জোড়া লাগত না।”

  1. ক)

    ‘নিঠুরিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘বিষে-ভরা বাণ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”—চরণটির ভাব উদ্দীপকের কোন ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “রহিমের মতো মানুষের পক্ষে ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব।”—কবিতার আলোকে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নিঠুরিয়া’ শব্দের অর্থ নিষ্ঠুর বা নির্দয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বিষে-ভরা বাণ’ বলতে কবি কটু কথা বা হিংসাত্মক ভাষাকে বুঝিয়েছেন। বাণ যেমন শরীরকে আঘাত করে, তেমনি কটু ও হিংসাত্মক কথা মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে। যে ব্যক্তি এমন কথা বলে কবিকে আঘাত দিয়েছে, কবি তার বদলে তাকে ‘বুকভরা গান’ উপহার দেন। এর মাধ্যমে অপমানের জবাবে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেওয়ার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চরণটির ভাব উদ্দীপকে রহিমের ঈদের দিন মিষ্টি নিয়ে করিমের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি বলেছেন, যে তাঁকে পর করে দিয়েছে তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে ঘোরেন। সেখানে কবি অপমান বা অবহেলার জবাবে দূরে সরে যান না, বরং নিজে এগিয়ে গিয়ে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে চান। উদ্দীপকে করিম রহিমকে অপমান করে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, তবু রহিম অভিমান ভুলে নিজে করিমের বাড়ি গিয়েছে। এর ফলে দুই ভাইয়ের মিলন ঘটেছে। এখানে রহিমের উদ্যোগ কবির ‘আপন করিতে’ চাওয়ার আকুলতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি সঠিক বলে মনে করি। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তার উপকার করার আদর্শ তুলে ধরেছেন। কবি নিজেও এই পথ সহজে চলেননি; ঘর ভাঙা, বুকে আঘাত পাওয়া ও পর হয়ে যাওয়ার বেদনা তাঁর কণ্ঠে আছে (‘যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি’)। তবু তিনি ঘৃণার বদলে ভালোবাসাকে বেছে নেন। উদ্দীপকে রহিমও সহজে এ পথে আসেনি; অপমানের ক্ষোভে সে কয়েক মাস ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ক্ষোভ জয় করে ঈদের দিন করিমের কাছে নত হয়েছে এবং সম্পর্ক ফিরিয়ে এনেছে। এতে বোঝা যায়, কবির আদর্শ কঠিন হলেও সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব নয়। প্রথম ধাক্কায় মানুষ ক্ষুব্ধ হতেই পারে, কিন্তু নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করে ক্ষমার পথে এগোনো যায়। রহিমের ঘটনাই তার প্রমাণ। অতএব রহিমের মতো মানুষের পক্ষে কবির আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও