সহপাঠ • বহিপীর

সহপাঠ প্রশ্ন

রহিমা খাতুন অত্যন্ত ধর্মভীরু মহিলা। তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া এক অনাথ মেয়ে নাজিয়াকে তিনি সারাদিন কাজে পাশে বসিয়ে রেখে মায়ের মতো আদর করেন। গ্রামের হুজুর যখন বললেন, ‘এ মেয়েকে আশ্রয় দিলে আপনার ক্ষতি হবে’, রহিমা খাতুন ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি নাজিয়াকে বললেন, ‘আমার তো মায়া হয়, কিন্তু হুজুরকে অসন্তুষ্ট করার সাহস আমার নেই।’

  1. ক)

    পর্দা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খোদেজা কী বানাতে বসেন?

    (1)
  2. খ)

    ‘আমার মেয়ে নেই’—খোদেজার এই উক্তির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    রহিমা খাতুনের ভয়ের সঙ্গে ‘বইপীর’ নাটকের খোদেজার পীরসাহেবের বদদোয়া এড়ানোর চেষ্টার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিমা খাতুন ও ‘বইপীর’ নাটকের খোদেজা চরিত্রের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পর্দা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ শেষ করে খোদেজা পান বানাতে বসেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খোদেজা তাহেরার প্রতি তাঁর মমতার কথা প্রকাশ করতে গিয়ে একথা বলেছেন। তাঁর কোনো মেয়ে নেই বলে তাহেরা সারা দিন তাঁর পাশে কাজ করায় তাঁর বেশ ভালো লেগেছে। অর্থাৎ ভেতরে ভেতরে তাহেরার প্রতি তাঁর মাতৃসুলভ টান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পীরের প্রতি ভয়ের কারণে তিনি সেই মমতা প্রকাশ্যে কার্যকর করতে পারছেন না। উক্তিটিতে তাঁর দ্বৈত মনোভাব ধরা পড়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমা খাতুনের ভয়ের সঙ্গে খোদেজার পীরসাহেবের বদদোয়া এড়ানোর চেষ্টার সম্পর্ক হলো ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি অন্ধ ভীতি। উদ্দীপকে রহিমা খাতুন হুজুরের অসন্তুষ্টির ভয়ে মমতার পাত্রী নাজিয়াকে আশ্রয় দিতে দ্বিধা করছেন। নাটকেও খোদেজা তাহেরাকে ভালোবাসেন, কিন্তু বলেন, ‘পীরসাহেবকে অসন্তুষ্ট করে তাঁর বদদোয়া মাথায় নিতে আমি রাজি নাই।’ উভয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতার অসন্তোষের ভয় মানবিক টানের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে। দুজনেই মনে মনে সহানুভূতিশীল হলেও পীর বা হুজুরের কর্তৃত্বের কাছে নতিস্বীকার করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমা খাতুন ও খোদেজা উভয়েই ধর্মভীরু ও স্নেহময়ী নারী, তবে তাঁদের আচরণের মাত্রায় পার্থক্য আছে। সাদৃশ্য: ১. দুজনেই আশ্রিতা মেয়েটিকে মায়ের মতো স্নেহ করেছেন। খোদেজা তাহেরাকে নিজের পাশে কাজ করিয়েছেন, তার চুল বেঁধে দিয়েছেন। রহিমা নাজিয়াকে আদর করেছেন। ২. দুজনেই পীর বা হুজুরের অসন্তোষকে ভয় পেয়েছেন। খোদেজা বলেছেন, তিনি বদদোয়া চান না। রহিমা হুজুরকে অসন্তুষ্ট করতে ভয় পেয়েছেন। বৈসাদৃশ্য: ১. উদ্দীপকে রহিমার ভয়ের পেছনে শুধু হুজুরের কথা, কিন্তু খোদেজা পীরসাহেবকে কল্যাণকামী মনে করে তাঁর ‘ভালোর জন্যই’ তাহেরার ফিরে যাওয়াকে সমর্থন করেছেন এবং বাস্তব সুবিধার হিসাবও কষেছেন, যেমন সে সুখ-সম্পত্তি পাবে। ২. খোদেজা ছেলে হাশেমের আবেগকে সামলাতে সরাসরি ধমক দিয়েছেন এবং শেষে পীরসাহেবের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। রহিমার এমন কোনো প্রতিক্রিয়া উদ্দীপকে নেই। এভাবে দুই চরিত্রের মূল স্বভাব এক হলেও খোদেজার চরিত্রে সংসারবুদ্ধি ও আবেগের টানাপোড়েন বেশি স্পষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও