ভূগোল ২য় পত্র • বসতি
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিম মিয়া বরিশালের একটি নদীর তীরে বাস করেন। তাঁর গ্রামে নদীর পাড় ধরে প্রায় ৫-৬ মাইল পর্যন্ত বাড়িগুলো একটানা সারিতে গড়ে উঠেছে। ফলে গ্রামে বাজার, স্কুল বা কমিউনিটি ক্লিনিক এমন জায়গায় বসানো যায়নি যেখানে সবাই সহজে যেতে পারে। অন্যদিকে তাঁর ভাই করিম নোয়াখালীর একটি চরে মাত্র ৫টি মাটির ঘর নিয়ে গড়া ছোট একটি বসতিতে থাকেন।
- ক)(1)
পল্লীবসতি সাধারণত কয়টি বাড়ি নিয়ে গঠিত?
- খ)(2)
বাংলাদেশে বিক্ষিপ্ত বসতির সংখ্যা বাড়ছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে করিমের বসতিটি গ্রামীণ বসতির কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? তার বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রহিম মিয়ার গ্রামে সেবা সুবিধা গড়ে তোলা কঠিন কেন— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পল্লীবসতি সাধারণত ৩ থেকে ৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিক্ষিপ্ত বসতিতে সাধারণত কৃষিজমির মাঝখানে দুই থেকে চারটি বাড়ি অবস্থান করে। বাংলাদেশে পরিবারের আকার ক্রমশ বাড়ছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কৃষিজমির কাছাকাছি নতুন ঘর তুলে আলাদা বসবাস শুরু করছে। এভাবে প্লাবনভূমি অঞ্চলে নতুন নতুন বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে উঠছে। তাই পরিবারের আকার বাড়ার কারণে দেশে বিক্ষিপ্ত বসতির সংখ্যা বাড়ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে করিমের বসতিটি পল্লীবসতির অন্তর্ভুক্ত। অতি ক্ষুদ্রকার জনগোষ্ঠীর যে বসতি ৩ হতে ৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত হয়, তাকে পল্লীবসতি বলে। উদ্দীপকে চরে মাত্র ৫টি মাটির ঘর নিয়ে বসতিটি গঠিত, যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বৈশিষ্ট্য: ১. অধিবাসীদের জীবনযাত্রা খুবই নিম্নমানের। ২. বাড়িগুলো স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ, অর্থাৎ মাটি বা চাটাই দিয়ে তৈরি। অবস্থান: বাংলাদেশের পাহাড়ি ও চর অঞ্চলে এ শ্রেণির বসতি দেখা যায়। উদ্দীপকের নোয়াখালীর চরে বসতিটির অবস্থান তাই পল্লীবসতির অবস্থানের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রহিম মিয়ার গ্রামের বসতিটি সারিবদ্ধ বসতি, যেখানে বাড়িগুলো পাশাপাশি অবস্থিত হয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন রেখা সৃষ্টি করে। একে রৈখিক বসতিও বলে। এ বসতি কখনও কখনও ৫-৬ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মিলে যায়। সেবা সুবিধা গড়ে তোলা কঠিন হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো। ১. দূরত্ব: বসতি দীর্ঘ রেখায় ছড়িয়ে থাকায় একটি কেন্দ্রীয় স্থানে বাজার বা স্কুল বসালে বসতির দুই প্রান্তের মানুষের জন্য তা অনেক দূরে পড়ে। ২. সংযোগের অভাব: পরিবারগুলো রেখা ধরে ছড়ানো বলে অধিবাসীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তোলাও কঠিন হয়। ৩. ধীর বিকাশ: এ বসতি দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, ফলে সবার জন্য সমান সুবিধাজনক কেন্দ্রীয় স্থান নির্ধারণ করা কঠিন হয়। এসব কারণে সারিবদ্ধ বসতিতে বাজার, শিক্ষা প্রভৃতি সেবা সুবিধাজনকভাবে গড়ে তোলা যায় না। তাই রহিম মিয়ার গ্রামে বাজার, স্কুল ও ক্লিনিক সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে বসানো সম্ভব হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও