সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

যুদ্ধের সময় বিলাসপুর গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়াত সোহরাব। লোকে তাকে আধপাগল বলত। সে সবার সামনে হাসত, গান গাইত, তাই কেউ তাকে সন্দেহ করত না। হানাদার বাহিনী গ্রামে ঢোকার পর সে চুপিচুপি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ছুটে গিয়ে তাদের আসার খবর দিয়ে আসত। এজন্য প্রতিবারই মুক্তিযোদ্ধারা সময়মতো সরে যেত।

  1. ক)

    ঝড়ের সময় খালি গায়ে জঙ্গলা মাঠের দিকে কে ছুটে যাচ্ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মেজর নিজামকে সত্যিকারের পাগল মনে করেননি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সোহরাবের সঙ্গে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের নিজামের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মেজর এজাজের সন্দেহ ভিত্তিহীন ছিল না।”—উদ্দীপক ও ‘১৯৭১’ উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঝড়ের সময় খালি গায়ে পাগল নিজাম জঙ্গলা মাঠের দিকে ছুটে যাচ্ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঝড়ের সময় মেজর দেখলেন, নিজাম উল্লসিত ভঙ্গিতে ছুটে জঙ্গলা মাঠের দিকে যাচ্ছে। তাঁর আগে থেকেই সন্দেহ ছিল, বনে ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা লুকিয়ে আছে। তাই তাঁর মনে হলো, নিজাম পাগল নয়, বরং সে বনে খবর দিতে যাচ্ছে। রফিক নিজামকে পাগল বলে পরিচয় দিলেও মেজর তা বিশ্বাস করেননি, কারণ ঝড়ের মধ্যে বনের দিকে এই ছুটে যাওয়া তাঁর কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সোহরাবের সঙ্গে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের নিজামের সাদৃশ্য হলো, দুজনকেই লোকে পাগল বা আধপাগল বলে জানে এবং দুজনই হানাদারদের আগমনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের দিকে ছুটে যায়। উপন্যাসে মিলিটারি আসায় নিজাম খুশি হয়েছে বলে রফিক জানায় এবং ঝড়ের মধ্যে সে উল্লসিত ভঙ্গিতে জঙ্গলা মাঠের দিকে ছুটে যায়। মেজরের সন্দেহ হয়, সে বনে লুকিয়ে থাকা সৈন্যদের কাছে খবর নিয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের সোহরাবও পাগলামির আড়ালে সন্দেহমুক্ত থেকে হানাদারদের খবর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাত। দুজনের ভূমিকাই সাধারণ মানুষের গোপন অবদানের সম্ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উপন্যাসের ঘটনা ও উদ্দীপকের তথ্য মিলিয়ে দেখলে মেজরের সন্দেহের মূল ভিত্তি সঠিক প্রমাণিত হয়। ১. নিজামের আচরণ: ঝড়ের মধ্যে নিজাম আনন্দে ছুটে জঙ্গলা মাঠের দিকে যায়। মেজরের মনে হয়, এ খবর দিতেই সে যাচ্ছে। উদ্দীপকের সোহরাবও পাগলের মতো ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিত। উপন্যাসে নিজাম সত্যিই খবর নিয়ে গিয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে তার আচরণ মেজরের সন্দেহকে অমূলক করে না। ২. রফিকের আচরণ: মেজর কৈবর্তপাড়ায় তল্লাশি চাইলে রফিক বলেছিল, প্রয়োজন নেই। নিজামকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সে নির্বিকার থাকে এবং বলে, মানুষের চেয়ে গাছকেই পাগলেরা বড় বন্ধু মনে করে—এভাবে সে সন্দেহ সরানোর চেষ্টা করে। ৩. পরবর্তী ঘটনা: জয়নাল মিয়া স্বীকার করে, প্রায় একশ সৈন্য পরশু থেকে বনে আছে এবং গ্রামের মানুষ তিনবার তাদের খাবার পাঠিয়েছে। ঝড়ের সুযোগে তারা সরে গেছে কি না জানতে চাইলে রফিক বলে, এতক্ষণে তারা অনেকদূর চলে গেছে। ৪. সীমাবদ্ধতা: মেজর তখনই নিজামকে ধরেননি এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ফলে সৈন্যরা নিরাপদে সরে যেতে পেরেছে। তবু বনে সৈন্য লুকিয়ে থাকার তাঁর সন্দেহ সঠিক ছিল। সুতরাং মেজরের সন্দেহ ভিত্তিহীন ছিল না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও