জীববিজ্ঞান • রেচন প্রক্রিয়া

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র তানভিরের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। তার বড় ভাই ফারহান সুস্থ এবং কিডনি দিতে রাজি। তানভিরের বন্ধুর বাবা রফিক সাহেবও কিডনি দিতে চান, কিন্তু আইনগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে তানভিরের দাদু উইল করেছেন যে মৃত্যুর পর তার চোখ ও কিডনি দান করা হবে। এ নিয়ে পরিবারের কেউ কেউ আপত্তি করছেন।

  1. ক)

    ব্রেন ডেড কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    একটি কিডনি দান করার পরও একজন সুস্থ মানুষ বেঁচে থাকতে পারেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তানভিরের জন্য কিডনি দাতা হিসেবে কে উপযুক্ত এবং কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভিরের দাদুর সিদ্ধান্তটি সমাজের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? মরণোত্তর বৃক্কদানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে মানুষের আর কখনোই জ্ঞান ফিরবে না, কিন্তু তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখা হয়েছে, তাকে ব্রেন ডেড বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানবদেহে দুটি বৃক্ক থাকে। কিন্তু একটি বৃক্ক কার্যকর থাকলেই সেটি দিয়ে রক্তের বর্জ্য ছেঁকে মূত্র তৈরি, পানি ও লবণের সাম্য রক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কাজ চালানো সম্ভব। তাই একজন সুস্থ ব্যক্তি একটি কিডনি দান করলেও অপর কিডনিটি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে তানভিরের জন্য উপযুক্ত দাতা তার ভাই ফারহান। কিডনি প্রতিস্থাপনের সময় দেখতে হয় দাতার টিস্যু রোগীর টিস্যুর সাথে মেলে কি না। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফারহান তানভিরের ভাই এবং সুস্থ, তাই তার কিডনি উপযুক্ত। অন্যদিকে আমাদের দেশে আইনগত জটিলতার কারণে রক্তের সম্পর্ক না থাকলে কিডনি দান করা যায় না। রফিক সাহেবের সাথে তানভিরের রক্তের সম্পর্ক নেই, তাই তিনি দাতা হতে পারবেন না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভিরের দাদুর সিদ্ধান্তটি মরণোত্তর বৃক্কদানের একটি উদাহরণ, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পক্ষে যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    ১. জীবন বাঁচানো: মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমেও একজন কিডনি বিকল রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। মৃত্যুর পর কিডনি অন্য কোনো কাজে আসে না, কিন্তু প্রতিস্থাপিত হলে একজনের জীবন রক্ষা পায়।
    ২. দাতার সংকট দূর: আমাদের দেশে আইনগত জটিলতার কারণে রক্তের সম্পর্ক না থাকলে জীবিত ব্যক্তি কিডনি দিতে পারেন না। অনেক রোগী তাই জরুরি প্রতিস্থাপন থেকে বঞ্চিত হন। মরণোত্তর দান এই সংকট কমাতে পারে।
    ৩. ডায়ালাইসিসের বিকল্প: ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোগী দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবন পেতে পারে। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ রোগী এভাবে সুস্থ জীবনযাপন করছে।
    ৪. ব্রেন ডেড ব্যক্তির অবদান: ব্রেন ডেড ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কৃত্রিমভাবে সচল রাখা হলে তার কিডনি রোগীর দেহে সংযোজন করা যায়।
    তাই পরিবারের আপত্তি থাকলেও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে মরণোত্তর বৃক্কদানকে উৎসাহিত করা উচিত। দাদুর সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয় ও মানবকল্যাণমূলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও