ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
নরসিংদীর কৃষক করিম সাহেবের তিন ছেলে। অল্প জমি ভাগ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বড় ছেলে রফিক একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। পরে তার দুই ভাইও একই এলাকার চামড়াজাত পণ্যের কারখানায় কাজ পায়। দেশে একসময় শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ কৃষিতে নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪৮ ভাগে নেমে এসেছে।
- ক)(1)
রপ্তানি কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে জাতীয় আয় বাড়ে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষিতে নিয়োজিত মানুষের হার কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে একটি দেশ তার উৎপাদিত পণ্য বিদেশি চাহিদার কারণে যখন সেখানে প্রেরণ করে, তখন তাকে রপ্তানি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হিমায়িত মাছ, শুটকি, পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও হস্তশিল্পের মতো পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়। এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়লে রপ্তানির পরিমাণও বাড়ে। রপ্তানি থেকে সরকার শুল্ক আদায় করে এবং উদ্যোক্তারা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন। ফলে সরকারের রাজস্ব ও দেশের মোট আয় বৃদ্ধি পায়। তাই রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বাড়লে জাতীয় আয় বাড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে কৃষিতে নিয়োজিত মানুষের হার ৭০ ভাগ থেকে কমে প্রায় ৪৮ ভাগে নেমে এসেছে। এর মূল কারণ রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃষিজমি খণ্ড-বিখণ্ড হচ্ছে এবং মানুষ ও ভূমির অনুপাত নেতিবাচক হয়ে পড়ছে। উদ্দীপকে করিম সাহেবের অল্প জমি তিন ছেলের মধ্যে ভাগ হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়েছিল। এ অবস্থায় বড় ছেলে রফিক রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় এবং অন্য দুই ছেলে চামড়াজাত পণ্যের কারখানায় কাজ পায়। রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ায় শিল্প কারখানায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষ শিল্পখাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির হার কমেছে। সুতরাং রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রপ্তানিমুখী পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের কারখানা করিম সাহেবের পরিবারের জীবিকার নতুন পথ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। গুরুত্বগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: কৃষিতে আগে থেকেই জনসংখ্যার চাপ রয়েছে। রপ্তানিমুখী কারখানায় রফিক ও তার ভাইদের মতো হাজার হাজার মানুষের কাজ জুটছে। এতে বেকারত্ব কমে।
২. কৃষির ওপর চাপ হ্রাস: শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ায় কৃষিতে নিয়োজিত মানুষের হার ৭০ ভাগ থেকে ৪৮ ভাগে নেমেছে। ফলে জমির ওপর চাপ কমেছে।
৩. রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো সহজ হয় এবং লেনদেনের ভারসাম্য অনুকূলে আসে।
৪. জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: কারখানায় কাজের ফলে পরিবারগুলোর আয় বাড়ে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং দেশের মাথাপিছু আয়ও বাড়ে।
৫. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি উৎপাদন অনিশ্চিত। শিল্পজাত রপ্তানি পণ্য অর্থনীতিকে অধিক স্থিতিশীল করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসংস্থান, আয় ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও