পদার্থ বিজ্ঞান • তরঙ্গ ও শব্দ
পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন
রুমার বাসা শহরের একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে। সেখানে সারাদিন বাস ও ট্রাকের ইঞ্জিন এবং হর্নের শব্দ প্রায় 85 dB মাত্রায় থাকে। এ শব্দ এড়ানোর জন্য সে পড়ার সময় সারাক্ষণ কানে হেডফোন লাগিয়ে উচ্চ ভলিউমে গান শোনে। ইদানিং সে নিচু স্বরের কথা ঠিকমতো শুনতে পায় না। অন্যদিকে তার ভাই রাতুল বাড়িতে গানের আসরে একতারা, বাঁশি, হারমোনিয়াম, ঢোল ও তবলা বাজায়। (সাধারণ কথাবার্তার শব্দ 40-60 dB)
- ক)(1)
শব্দদূষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
বাদ্যযন্ত্রের শব্দ সুরেলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাদ্যযন্ত্রগুলোকে শব্দ সৃষ্টির পদ্ধতি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করে প্রতিটি শ্রেণিতে কীভাবে শব্দ তৈরি হয় লেখো।
- ঘ)(4)
রুমার হেডফোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত? উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করে রুমার সমস্যা সমাধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তা সুপারিশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবেশে অতিরিক্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের কারণে যখন মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাকে শব্দদূষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুরশলাকা থেকে শুধু একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ বের হয়। কিন্তু বাদ্যযন্ত্রের সুরযুক্ত শব্দে একটি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ থাকে না; একাধিক কম্পাঙ্কের তরঙ্গ পরস্পরের ওপর উপরিপাতিত হয়। এর ফলে একটি পর্যায়বৃত্ত তরঙ্গরূপ তৈরি হয় যা কানে মধুর লাগে। তাই বাদ্যযন্ত্রের শব্দ সুরেলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বাদ্যযন্ত্রগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(১) তার দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র: একতারা। এতে তার টানা থাকে; তারে আঘাত বা টোকা দিলে তার কেঁপে ওঠে এবং শব্দ তৈরি হয়।
(২) বাতাসের প্রবাহ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র: বাঁশি ও হারমোনিয়াম। এগুলোতে বাতাসের প্রবাহ কম্পন সৃষ্টি করে এবং শব্দ তৈরি হয়।
(৩) আঘাত (Percussion) দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র: ঢোল ও তবলা। এগুলোর চামড়ার পর্দায় আঘাত করলে পর্দা কাঁপতে থাকে ও শব্দ তৈরি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রুমার বাসার চারপাশের শব্দ প্রায় 85 dB, যা সাধারণ কথাবার্তার শব্দের (40-60 dB) চেয়ে অনেক বেশি এবং ট্রাফিকের শব্দের সীমার (80-90 dB) মধ্যে পড়ে। সুতরাং সে শব্দদূষণের মধ্যে আছে।
রুমা এ শব্দ এড়াতে সারাক্ষণ উচ্চ ভলিউমে হেডফোনে গান শোনে। এতে সে বাইরের শব্দের পাশাপাশি হেডফোনের অতিরিক্ত শব্দের কারণেও কানের ক্ষতি করছে। তাই সমস্যা কমার বদলে আরও জটিল হচ্ছে; ইদানিং সে নিচু স্বরের কথা ঠিকমতো না শোনা এর প্রমাণ। অতএব রুমার সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত নয়।
সুপারিশ:
(i) রুমার উচিত হেডফোন ব্যবহার বন্ধ করা বা কম ভলিউমে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা এবং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
(ii) সড়কে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করার জন্য আইন তৈরি ও তার কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
(iii) জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে চালকেরা কম হর্ন ব্যবহার করে এবং কম শব্দের যানবাহন ব্যবহার করে।
(iv) বাসার আশেপাশের ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগাতে হবে, কারণ গাছ শব্দ শোষণ করে।
এসব ব্যবস্থা নিলে রুমার শ্রবণশক্তি রক্ষা পাবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও