জীববিজ্ঞান • দৃঢ়তা প্রদান ও চলন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে শিক্ষক দুটি কলার নমুনা দেখালেন। নমুনা X দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা, যার মাতৃকায় ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের যৌগ রয়েছে। নমুনা Y অপেক্ষাকৃত নরম ও স্থিতিস্থাপক। এর মাতৃকা হালকা নীল বর্ণের এবং এটি কানের পিনায় পাওয়া যায়। নমুনা Y একটি চকচকে সাদা আবরণে ঘেরা।

  1. ক)

    কন্ড্রিন কী?

    (1)
  2. খ)

    তরুণাস্থিকে চকচকে সাদা দেখায় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের X ও Y কলা দুটির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের X কলাটির গঠন ও বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D ও সূর্যালোকের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তরুণাস্থি কোষ থেকে নিঃসৃত এক ধরনের শক্ত, ঈষদচ্ছ রাসায়নিক বস্তুকে কন্ড্রিন বলে। এর দ্বারাই তরুণাস্থির মাতৃকা গঠিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সব তরুণাস্থি তন্তুময় যোজক কলা দিয়ে নির্মিত একটি আবরণী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিকন্ড্রিয়াম বলে। এই আবরণটি দেখতে চকচকে সাদা। তাছাড়া তরুণাস্থির মাতৃকা কন্ড্রিন দিয়ে গঠিত, যার বর্ণ হালকা নীল। তাই আমরা সাধারণত তরুণাস্থিকে সাদা, নীলাভ ও চকচকে দেখতে পাই।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের X হলো অস্থি এবং Y হলো তরুণাস্থি। এদের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দৃঢ়তা: অস্থি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা, কিন্তু তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়, এটি নরম ও স্থিতিস্থাপক। ২. মাতৃকার উপাদান: অস্থির মাতৃকা জৈব পদার্থ ও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস প্রভৃতির যৌগ দ্বারা গঠিত। তরুণাস্থির মাতৃকা কন্ড্রিন দিয়ে গঠিত। ৩. বর্ণ ও আবরণ: তরুণাস্থির মাতৃকা হালকা নীল বর্ণের এবং এটি পেরিকন্ড্রিয়াম নামক চকচকে সাদা আবরণে ঢাকা থাকে, অস্থির ক্ষেত্রে এমন নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের X কলাটি হলো অস্থি। অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। জীবিত অস্থিতে প্রায় 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ থাকে। অস্থির গঠন ও বৃদ্ধিতে নিম্নলিখিত উপাদানগুলোর ভূমিকা রয়েছে: ১. ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়ামের যৌগ অস্থির মাতৃকাকে শক্ত ও মজবুত করে। এর অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যায়। ২. ভিটামিন D: অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। ভিটামিন D-এর অভাব হলে অস্থির বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ৩. সূর্যালোক: সূর্যের আলো ত্বকে অবস্থিত কোলেস্টেরলের এমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়, যা যকৃৎ ও বৃক্কে আরও কিছু ধারাবাহিক পরিবর্তনের পর ভিটামিন D সংশ্লেষণ করে। তাই পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ জরুরি। যারা সবসময় ঘরে থাকেন বা সারা শরীর আবৃত পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন D-এর ঘাটতির সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং অস্থির দৃঢ়তা ও সুস্থ বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D ও সূর্যালোক পরস্পর সম্পর্কযুক্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও