সাহিত্য পাঠ • জীবন ও বৃক্ষ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রহিম সাহেব তাঁর ছেলে নাঈমকে কেবল ভালো ফল ও উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য পড়ান। সাহিত্য, গান ও ছবি আঁকা তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। নাঈম পরীক্ষায় ভালো ফল করে, কিন্তু অন্যের দুঃখে সংবেদনহীন, কঠোর ও অহংকারী হয়ে উঠেছে। তার শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষা মানে শুধু পাস করা নয়, মানুষকে ভেতর থেকে গড়ে তোলাও।’

  1. ক)

    মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন সাহিত্য সমাজের অন্যতম পুরোধা ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা তৈরি পাওয়া যায় না”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রহিম সাহেবের শিক্ষাভাবনার সীমাবদ্ধতা ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাঈমের মতো মানুষ প্রবন্ধে বর্ণিত কোন ধরনের মানুষের সঙ্গে তুলনীয়? তাকে ‘বড় মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রবন্ধের নির্দেশনা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর অন্যতম পুরোধা ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখকের মতে, সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ভেতরে যে পরিপক্কতা, তাই আত্মা। তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির ওপর তাদের নিজেদের হাত নেই, কিন্তু মানুষের বৃদ্ধির ওপর তার নিজের হাত আছে। তাই মানুষকে বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রচুর প্রেম ও গভীর অনুভূতির মাধ্যমে নিজের আত্মাকে মধুর ও পুষ্ট করে গড়ে তুলতে হয়। এটি জন্মসূত্রে পাওয়া যায় না বলেই লেখক কথাটি বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেব শিক্ষাকে কেবল ভালো ফল ও চাকরির মাধ্যম হিসেবে দেখেন এবং সাহিত্য-শিল্পকলার চর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটিই তাঁর শিক্ষাভাবনার সীমাবদ্ধতা। প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রেম ও গভীর অনুভূতির দ্বারা আত্মার পরিপুষ্টি সম্ভব এবং সেই সাধনাই মানুষের শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু। বস্তুজগৎ ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু হতে পারে না, কারণ তাতে আত্মার উন্নতি হয় না, জীবনবোধ ও মূল্যবোধে অন্তর পরিপূর্ণ হয় না। তা হয় সাহিত্য-শিল্পকলার দ্বারা। নাঈমের অনুভূতিহীনতা সেই আত্মিক বিকাশের অভাবেরই ফল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাঈমের মতো সংবেদনহীন, কঠোর ও অহংকারী মানুষ প্রবন্ধে বর্ণিত স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের সঙ্গে তুলনীয়।

    লেখকের মতে এ ধরনের মানুষ নিজের জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে না। প্রেম ও সৌন্দর্যের স্পর্শ পায়নি বলে তারা নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধি। তাদের একমাত্র দেবতা অহংকার, আর তাদের মানবপ্রেমের কথা আন্তরিকতাহীন বুলি মাত্র। নাঈমের অন্যের দুঃখে উদাসীনতা ও অহংকার এই বৈশিষ্ট্যেরই প্রকাশ।

    প্রবন্ধে এমন মানুষের স্থানে বড় মানুষ এনে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যারা সূক্ষ্মবুদ্ধি, উদারহৃদয় ও গভীরচিত্ত। তাদের কাছে জীবনের বিকাশ বড়, কেবল টিকে থাকা নয়। এই মানুষ গড়ে তোলার জন্য লেখক নির্দেশ দিয়েছেন, সমাজের কাজ শুধু টিকে থাকার সুবিধা দেওয়া নয়, মানুষকে বড় করে তোলা। মানুষকে বৃক্ষের মতো ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবায় প্রস্তুত হতে হবে। এজন্য বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রচুর প্রেম ও গভীর অনুভূতির মাধ্যমে আত্মার বিকাশ ঘটাতে হবে, যা সাহিত্য-শিল্পকলার চর্চার দ্বারা সম্ভব।

    অতএব নাঈমকে সাহিত্য, গান ও ছবি আঁকার সঙ্গে যুক্ত করে তার ভেতরের অনুভূতি ও আত্মিক বিকাশ ঘটালে সে প্রবন্ধে কাঙ্ক্ষিত বড় মানুষ হয়ে উঠতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও