পদার্থ বিজ্ঞান • তেজস্ক্রিয়তা ও ইলেকট্রনিকস
পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন
একটি পরীক্ষাগারে দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস পর্যবেক্ষণ করা হলো। প্রথমটি , যার ছয়টি প্রোটন ও আটটি নিউট্রন আছে; এটি থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়ে নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। দ্বিতীয়টি , যার 11টি প্রোটন ও 11টি নিউট্রন আছে; এটি থেকে ইলেকট্রনের প্রতিপদার্থ নির্গত হয়ে নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। গবেষক লক্ষ করলেন, থেকে নির্গত কণাগুলোর শক্তি এক নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিভিন্ন মানের হয়।
- ক)(1)
বিটা কণা কী?
- খ)(2)
নিউক্লিয়াসের ভেতরে ইলেকট্রন না থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে বিটা কণা বের হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রনের প্রতিপদার্থ নির্গত হলে উৎপন্ন নিউক্লিয়াস এর পারমাণবিক সংখ্যা, নিউক্লিয়ন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
থেকে তে রূপান্তরের সমীকরণ লিখে কোন মৌলের নিউক্লিয়াস তা নির্ণয় কর। থেকে নির্গত কণার শক্তি বিভিন্ন মানের হওয়ার কারণ এবং আলফা কণার শক্তির সাথে এর পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসের ভেতরের নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হওয়ার সময় যে ইলেকট্রন নির্গত হয়, তাকে বিটা কণা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিউক্লিয়াসের ভেতরে শুধু প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, ইলেকট্রন থাকে না। নিউক্লিয়াসের কোনো একটি নিউট্রন ভেঙে একটি প্রোটন, একটি ইলেকট্রন ও একটি অ্যান্টি-নিউট্রিনোতে পরিবর্তিত হতে পারে, অর্থাৎ । এখানে সৃষ্ট ইলেকট্রনটিই বিটা কণা হিসেবে নিউক্লিয়াস থেকে বেরিয়ে আসে। প্রোটন নিউক্লিয়াসেই থেকে যায়, তাই মোট চার্জ অপরিবর্তিত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এর পারমাণবিক সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা = 11, নিউক্লিয়ন সংখ্যা = ।
ইলেকট্রনের প্রতিপদার্থ পজিট্রন নির্গত হতে নিউক্লিয়াসের একটি প্রোটনকে নিউট্রনে পরিবর্তিত হতে হয়: ।
এতে প্রোটন সংখ্যা 1 কমে এবং নিউট্রন সংখ্যা 1 বাড়ে, নিউক্লিয়ন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
এর পারমাণবিক সংখ্যা =
এর নিউক্লিয়ন সংখ্যা = 22
এর নিউট্রন সংখ্যা = ।
অতএব, এর পারমাণবিক সংখ্যা 10, নিউক্লিয়ন সংখ্যা 22 ও নিউট্রন সংখ্যা 12। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এর প্রোটন সংখ্যা 6 এবং নিউট্রন সংখ্যা 8, অর্থাৎ নিউক্লিয়ন সংখ্যা 14। এটি তেজস্ক্রিয় । বিটা বিকিরণে একটি নিউট্রন প্রোটনে পরিবর্তিত হয়, ফলে প্রোটন সংখ্যা হয় এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা 14-ই থাকে। 7 পারমাণবিক সংখ্যার মৌল নাইট্রোজেন।
সমীকরণ:
অতএব, হলো নাইট্রোজেনের নিউক্লিয়াস ।
শক্তির বিভিন্নতার কারণ: বিটা ক্ষয়ে ইলেকট্রনের সাথে একটি অ্যান্টি-নিউট্রিনোও নির্গত হয়। বিকিরণের মোট শক্তি ইলেকট্রন ও অ্যান্টি-নিউট্রিনোর মধ্যে ভাগ হয়। অ্যান্টি-নিউট্রিনো কতটুকু শক্তি নিয়ে যাবে তার ওপর ইলেকট্রনের শক্তি নির্ভর করে, তাই বিটা কণার শক্তি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যেকোনো মান হতে পারে।
আলফা কণার সাথে পার্থক্য: নিউক্লিয়াস থেকে আলফা কণা বের হলে তা কতগুলো বিচ্ছিন্ন, নির্দিষ্ট শক্তি নিয়েই বের হয়। কিন্তু বিটা কণার শক্তি অবিচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তনশীল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও