সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

একাত্তরের নভেম্বরে রহিমপুর গ্রামে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প বসে। ক্যাম্প কমান্ডার কৃষক ছমির উদ্দিনের কপালে রিভলবার ঠেকিয়ে জানতে চায়, মুক্তিযোদ্ধারা কোথায় লুকিয়ে আছে। ছমির প্রথমে বলে, ‘আমি কিছুই জানি না।’ কিন্তু ছোট ছেলেটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি পেয়ে সে শেষ পর্যন্ত ঘাঁটির খবর বলে দেয়। এজন্য সারাজীবন তাকে অনুশোচনায় ভুগতে হয়। অথচ ওই গ্রামের মোড়ল দিনের পর দিন মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার পাঠালেও কেউ তা জানতে পারেনি।

  1. ক)

    জয়নাল মিয়ার মতে জঙ্গলা মাঠে কতজন সৈন্য লুকিয়ে ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ইমাম সাহেব মেজরের সব প্রশ্নের জবাবে ‘আমি জানি না’ বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মোড়লের কাজ ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কাদের ভূমিকাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের ছমিরের আচরণে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের জয়নাল মিয়া ও আজিজ মাস্টারের আচরণের দুটি ভিন্ন দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জয়নাল মিয়ার মতে জঙ্গলা মাঠে প্রায় একশ জন সৈন্য লুকিয়ে ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নীলগঞ্জের মানুষ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের খাবার পাঠিয়ে সাহায্য করছিল। কিন্তু গ্রামবাসী ইমাম সাহেব ও আজিজ মাস্টারকে ‘বিদেশি মানুষ’ ভেবে এ খবর জানায়নি। তাই বনে সৈন্য আছে কি না, থাকলে কতজন, এসব বিষয়ে তিনি সত্যিই কিছু জানতেন না। এ কারণেই চড়-থাপ্পড় খেয়েও তিনি বারবার বলেছেন, ‘স্যার, আমি জানি না। কিছুই জানি না স্যার।’

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মোড়লের কাজ ‘১৯৭১’ উপন্যাসের নীলগঞ্জের কৈবর্তপাড়ার মানুষ ও গ্রামবাসীর ভূমিকাকে মনে করিয়ে দেয়। উপন্যাসে জয়নাল মিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রামের মানুষ তিনবার জঙ্গলা মাঠে ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের খাবার পাঠিয়েছে। কৈবর্তরা বনে খাবার নিয়ে গেছে এবং আহত ছয়-সাতজন সৈন্যকে নিজেদের পাড়ায় আশ্রয় দিয়েছে। এ খবর তারা অন্য কাউকে, এমনকি ইমাম সাহেব ও আজিজ মাস্টারকেও জানতে দেয়নি। উদ্দীপকের মোড়লও গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার পাঠিয়েছে এবং কাউকে টের পেতে দেয়নি। দুই ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের নীরব ও গোপন সহযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের ছমিরের আচরণে প্রথমে অজ্ঞতার ভান ও পরে প্রাণভয়ে তথ্য ফাঁস করার দুটি দিকই আছে। উপন্যাসেও এ দুটি দিক দুই চরিত্রে ফুটে উঠেছে। ১. অস্বীকার: ছমির প্রথমে ‘কিছুই জানি না’ বলে। উপন্যাসে মেজরের চড়-থাপ্পড়, অপমান ও হুমকির মুখেও আজিজ মাস্টার বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। বাস্তবে তিনি জানতেনও না। ২. ভয়ে ভেঙে পড়া: ছমির ছেলের প্রাণের ভয়ে ঘাঁটির খবর বলে দেয়। উপন্যাসে জয়নাল মিয়া আজিজ মাস্টারের নগ্ন অবস্থা ও পরিণতি দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকেন এবং মেয়েকে নিয়ে মেজরের হুমকি শুনে ভেঙে পড়েন। এরপর তিনি স্বীকার করেন, জঙ্গলা মাঠে প্রায় একশ সৈন্য আছে। ৩. পরিণতির পার্থক্য: মৃত্যুভয়ে ছমির ও জয়নাল সত্য প্রকাশ করেছে। তবু জয়নাল ও ইমামকে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর আজিজ মাস্টারকে রাজাকাররা বিলের দিকে নিয়ে যায়, সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায়। ৪. সার্বিক মূল্যায়ন: রফিকও বলেছে, মৃত্যুর সামনে কে কী করবে তা আগে থেকে বলা যায় না। ছমিরের অনুশোচনা এই মানবিক দুর্বলতাকেই সামনে আনে। সুতরাং উদ্দীপকের ছমিরে উপন্যাসের জয়নাল মিয়া ও আজিজ মাস্টারের আচরণের দুটি দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও