সহপাঠ • শব্দার্থ ও টীকা

সহপাঠ প্রশ্ন

বরেন্দ্র অঞ্চলের ফজলু ও জলিল সহোদর ভাই। পৈতৃক এক টুকরো জমির সীমানা নিয়ে বিবাদে একদিন তাদের মধ্যে লাঠালাঠি হয় এবং ফজলুর মাথা ফেটে যায়। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় সেই জমি ফেটে চৌচির; আকাশে মেঘের চিহ্ন নেই। শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছের দিকে তাকিয়ে দুই ভাই-ই বুক চেপে ধরে।

  1. ক)

    'রূঠাভূমি' বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    'মাটির তৃষ্ণায় তাদেরও অন্তর খাঁ খাঁ করে' – বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফজলু ও জলিলের বিবাদের আলোকে উপন্যাসে জমিকে 'সিপাহির খণ্ডিত ছিন্ন দেহের একতাল অর্থহীন মাংসের মতো' বলার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'শূন্য আকাশ বিশাল নগ্নতায় নীল হয়ে জ্বলেপুড়ে মরে' – প্রকৃতির এই রূপের সঙ্গে উদ্দীপকের কৃষকদের জীবন কীভাবে সম্পর্কিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'রূঠাভূমি' বলতে অনুর্বর বা নিষ্ফলা জমিকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৃষক শ্রম, মেধা ও স্বপ্ন দিয়ে মাঠে ফসল ফলায়। ফসল ফলানোর এক পর্যায়ে জমিতে পানি দিতে হয়। পানির অভাবে চারাগাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়, মাটি ফেটে চৌচির হয়। এই অবস্থা দেখে কৃষকের বুক অজানা শঙ্কায় ফেটে যায়। মাটি যেমন পানির অভাবে শুষ্ক, কৃষকের মনও তেমনি শূন্যতা ও হাহাকারে খাঁ খাঁ করে – এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপন্যাসে জমি নিয়ে মানুষের বিবাদ-বিসংবাদের অর্থহীনতা বোঝাতেই জমিকে 'সিপাহির খণ্ডিত ছিন্ন দেহের একতাল অর্থহীন মাংসের মতো' বলা হয়েছে।

    গ্রামে যার জমি যত বেশি, তার মর্যাদাও তত বেশি। এই মালিকানার মর্যাদাকে লেখক 'আত্মমর্যাদার ভুয়ো ঝাণ্ডা' বলেছেন, কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিতে এই বৈষয়িক অহমিকা অসার। জমি নিয়ে মানুষে মানুষে ঝগড়া, মারামারি, এমনকি রক্তপাতও ঘটে।

    উদ্দীপকে ফজলু ও জলিল সহোদর হয়েও সীমানা নিয়ে লাঠালাঠিতে জড়ায় এবং ফজলুর মাথা ফাটে। অথচ একই জমি বৃষ্টির অভাবে ফেটে চৌচির হলে দুজনই অসহায় হয়ে পড়ে। অর্থাৎ যে জমির জন্য রক্তপাত, প্রকৃতির আঘাতে তা-ই মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকের খণ্ডিত দেহের মাংসপিণ্ড যেমন অর্থহীন, জমি নিয়ে মানুষের এই হানাহানিও তেমনি অর্থহীন – এটাই উপমাটির তাৎপর্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপন্যাসে মেঘ-বৃষ্টিহীন নীল আকাশকে লেখক এক বিশাল নগ্নতা ও মৃত্যুযন্ত্রণার প্রতীক হিসেবে এঁকেছেন। রোদের তাপদাহে মাঠ-প্রান্তরের মাটি ফেটে চৌচির হয়, আকাশের শূন্যতায় জীবনের কোনো আশ্বাস থাকে না; তার নীলে কেবল মৃত্যুর যন্ত্রণাই যেন জ্বলতে থাকে।

    উদ্দীপকে বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় জমি ফেটে চৌচির হয়েছে এবং আকাশে মেঘের চিহ্ন নেই। এই চিত্র উপন্যাসে বর্ণিত শূন্য, দগ্ধ আকাশের সঙ্গে মেলে।

    প্রকৃতির এই রুক্ষতার সঙ্গে কৃষকের জীবন অবিচ্ছেদ্য। উপন্যাসের কৃষকরা মাটির তৃষ্ণায় অন্তর খাঁ খাঁ করে, চারা শুকিয়ে যেতে দেখে তাদের বুক ফেটে যায়। উদ্দীপকের ফজলু-জলিলও শুকিয়ে যাওয়া চারার দিকে তাকিয়ে বুক চেপে ধরে। কৃষকের বেঁচে থাকা, স্বপ্ন ও সংসার পুরোপুরি ফসলের ওপর নির্ভরশীল বলে প্রকৃতির এই বিরূপতা তাদের কাছে মৃত্যুযন্ত্রণার শামিল।

    অতএব আকাশের শূন্যতা ও দাহ আসলে কৃষকের হাহাকার ও নিরুপায়তারই প্রতিচ্ছবি, আর উদ্দীপক তারই বাস্তব প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও