সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

হরিপুর গ্রামের যুবক নয়ন কঠিন জন্ডিসে আক্রান্ত হলে জেলেপাড়ার মেয়ে কণা তাকে সেবা করে সুস্থ করে তোলে। সুস্থ হয়ে নয়ন কণার হাতের ভাত খেয়েছে জানতে পেরে মোড়লরা সালিস বসায়। সালিসে নয়নকে একঘরে করা হয় এবং কণাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর দেখা যায়, ওই মোড়লদের একজন গরিবের জমি দখল করেও গ্রামের উৎসবে বিপুল টাকা দান করে ‘দানবীর’ উপাধি পেয়েছেন, আর সবাই তাঁর জয়ধ্বনি দিচ্ছে।

  1. ক)

    মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া কোন বংশের নাম ডুবে যাওয়ার কথা বলে বেড়াচ্ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “সনাতন হিন্দু এ কুসংস্কার মানে না”—কথক কেন এ কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর গ্রামবাসীর ক্ষুব্ধ হওয়ার প্রকৃত কারণ ‘বিলাসী’ গল্প অবলম্বনে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মোড়লদের মতো ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজপতিদের উদারতাও আসলে কপটতা”—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া নালতের মিত্তির বংশের নাম ডুবে যাওয়ার কথা বলে বেড়াচ্ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কথক শুনেছেন যে বিলাতের পুরুষদের মধ্যে একটি সংস্কার আছে যে স্ত্রীলোক দুর্বল বলে তার গায়ে হাত তুলতে নেই। গল্পের গ্রামবাসীরা বিলাসীকে চুল-কান ধরে নির্যাতন করে গ্রামছাড়া করছিল। কথক তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে সনাতন হিন্দু এ ‘কুসংস্কার’ মানে না, কারণ তারা মনে করে যার গায়ে জোর নেই তার গায়েই হাত তোলা যায়। এই উক্তির মাধ্যমে তিনি সমাজের নির্দয়তা, নারীর প্রতি অমানবিক আচরণ ও কপট আদর্শবাদকে ধিক্কার জানিয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর গ্রামবাসীর ক্ষুব্ধ হওয়ার প্রকৃত কারণ ছিল তার সমাজবিরুদ্ধ আচরণ, বিশেষ করে সাপুড়ের মেয়ের হাতে ভাত খাওয়া।

    মৃত্যুঞ্জয় কায়েতের ছেলে হয়েও সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে নিকা করেছে—এ খবরে খুড়া ও গ্রামবাসীরা তোলপাড় শুরু করে। কিন্তু কথক জানিয়েছেন যে নিকা নিয়ে যতটা রাগ ছিল, তার চেয়ে বেশি রাগ ছিল ভাত খাওয়া নিয়ে। রোগী ও শয্যাশায়ী হলেও লুচি, সন্দেশ বা পাঁঠার মাংস নয়, সে ভাত খেয়েছে, আর সমাজের চোখে তা অন্ন-পাপ, যা ক্ষমা করা যায় না। এই কারণেই গ্রামবাসী মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। উদ্দীপকে নয়নের কণার হাতে ভাত খাওয়ার জন্য সালিস বসানোর ঘটনাতেও একই কারণ স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মোড়লদের আচরণে সমাজপতিদের যে কপটতা ধরা পড়েছে, ‘বিলাসী’ গল্পেও সেই কপটতা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে মোড়লরা একটি অসহায় মেয়ের মানবিক সেবাকে অপরাধ গণ্য করে তাকে গ্রামছাড়া করেছে, অথচ নিজেরা গরিবের জমি দখল করেও দানের বিনিময়ে ‘দানবীর’ খ্যাতি পেয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে কথক বলেছেন, পল্লিগ্রামের লোক সংকীর্ণচিত্ত নয়, বড়লোক হলে তারা এমন উদারতা দেখায় যে শুনলে অবাক হতে হয়। যেমন ছোটবাবু বিধবা বৌঠানকে কাশী থেকে ফিরিয়ে এনেছেন সম্পত্তি বেহাত হওয়ার ভয়ে—এই সন্দেহ নিন্দুকদের মুখে ঘোরে। অথচ তিনি বারোয়ারি পূজায় দুশো টাকা দান করে ও ব্রাহ্মণদের কাঁসার গ্লাস বিলিয়ে ‘ধন্য ধন্য’ ধ্বনি পান। অন্যদিকে ভাত খাওয়ার ‘অপরাধে’ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীকে গ্রাম থেকে তাড়ানো হয়।

    উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সমাজের কাছে ধনীর স্বার্থসিদ্ধি ও লোকদেখানো দান প্রশংসার বিষয়, আর গরিব ও নিম্নবর্ণের মানুষের মানবিক কাজ শাস্তির কারণ। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে গল্পের ‘উদারতা’ প্রকৃত মানবিকতা নয়, বরং বিত্তবানদের প্রতি তোষামোদ ও দুর্বলের প্রতি নির্মমতা। সুতরাং মন্তব্যটি পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও