বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
জনাব জামাল ঢাকার একটি এলাকায় ইটের দেয়াল দিয়ে ছয়তলা বাড়ি তৈরি করেছেন। বাড়ির নিচতলা গাড়ি রাখার জন্য সম্পূর্ণ খোলা রাখা হয়েছে। দেয়ালে খাড়া রড ব্যবহার করা হয়নি এবং দরজা-জানালা ঘরের কোনায় বসানো হয়েছে। ভবনটির পাশে অন্য একটি বাড়ি একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত। একদিন রাত দুইটায় ভূমিকম্প শুরু হলে জামালের পরিবার ভীত হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
নতুন বাড়ি তৈরির সময় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে কোন কোড অনুসরণ করতে হয়?
- খ)(2)
ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ রাখতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জামালের বাড়ি নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি রয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাতে ভূমিকম্পের সময় এবং ভূমিকম্পের পর জামালের পরিবারের কী কী করা উচিত— পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নতুন বাড়ি তৈরির সময় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ‘ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ অনুসরণ করতে হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন ছিঁড়ে বা ফেটে যেতে পারে। তখন চালু অবস্থায় থাকলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা গ্যাস লিক হয়ে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকে। এতে ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ রাখতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জামালের বাড়ি নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ত্রুটি রয়েছে—
১. ইটের দেয়ালের ভবন চার তলার বেশি করা উচিত নয়, অথচ জামাল ছয়তলা ভবন করেছেন।
২. ভবন দোতলার বেশি হলে প্রতিটি কোনায় ইটের মাঝখানে এবং দরজা-জানালার পাশ দিয়ে খাড়া রড ঢোকাতে হয়। জামালের ভবনে তা করা হয়নি।
৩. দরজা ও জানালা ঘরের কোনায় না হওয়াই ভালো, কিন্তু তিনি কোনায় বসিয়েছেন।
৪. ভবনের নিচতলা সম্পূর্ণ খোলা রাখা উচিত নয়, অথচ তাঁর নিচতলা খোলা।
৫. দুটি বাড়ির মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব রাখতে হয়, কিন্তু পাশের বাড়ি গা ঘেঁষে নির্মিত।
এসব ত্রুটির কারণে ভূমিকম্পে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামালের পরিবার বহুতল ভবনে অবস্থান করছে এবং ভূমিকম্প রাতে হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের করণীয় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
১. নিজেদের ধীরস্থির ও শান্ত রাখা এবং আতঙ্কিত না হওয়া।
২. টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে পড়া এবং কাচের জানালা থেকে দূরে থাকা। প্রয়োজনে ঘরের কোণে বা বিল্ডিংয়ের কলামের গোড়ায় আশ্রয় নেওয়া।
৩. উঁচু দালান, জানালা বা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা না করা।
৪. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ রাখা।
ভূমিকম্পের পর করণীয়:
১. নিজের ও অন্যদের আঘাত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া।
২. পানি, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা করা এবং দরজা-জানালা খুলে দেওয়া।
৩. রেডিও, টেলিভিশন চালু রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচারিত তথ্য শোনা।
৪. খালি পায়ে না চলা এবং লুটতরাজ থেকে সাবধান থাকা।
এসব পদক্ষেপ অনুসরণ করলে জামালের পরিবার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও