সাহিত্য পাঠ • আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দীর্ঘদিন পর শহর থেকে গ্রামে ফিরে রহিম মাস্টার দেখেন, যে চৌধুরী বাড়ির উঠানে আগে সালিশ বসত, সেখানে এখন কেউ যায় না। গরিব কৃষক বিচারের আশায় থানায় দৌড়ায়, কিন্তু টাকা ছাড়া কাজ হয় না। যুবকেরা মেম্বার হওয়ার দলাদলিতে ব্যস্ত, আর সবাই কেবল টাকা কামানোর নেশায় ছুটছে। রহিম মাস্টার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “আগের দিনগুলো কোথায় গেল!”
- ক)(1)
কবিতায় যাত্রাগানের আসর কাদের বাড়িতে বসত?
- খ)(2)
“এখন সবাই পাগল-বড়লোক হইতাম”— কবি এ কথা বলেছেন কেন?
- গ)(3)
রহিম মাস্টারের মনোভাবে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার কবির কোন মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“বিচারব্যবস্থা ও মূল্যবোধের পরিবর্তনই কবির হতাশার মূল কারণ”— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় যাত্রাগানের আসর হিন্দুদের বাড়িতে বসত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি বর্তমান সমাজের ধনলিপ্সা ও নৈতিক অবক্ষয় বোঝাতে এ কথা বলেছেন। অতীতে মানুষ ছিল সরল ও ধর্মবলে বলীয়ান, সম্পদের লোভ তাদের গ্রাস করেনি। কিন্তু বর্তমানে মানুষ দ্রুত বড়লোক হওয়ার নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এই মূল্যবোধের পরিবর্তনে ব্যথিত হয়ে কবি এ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম মাস্টারের মনোভাবে কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতা ও বর্তমানের প্রতি ক্ষোভ প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে রহিম মাস্টার গ্রামে ফিরে দেখেন সালিশের ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে, বিচারে দুর্নীতি ঢুকেছে এবং মানুষ টাকার পেছনে ছুটছে। তাই তিনি অতীতের দিনগুলোর জন্য হাহাকার করেন। কবিতায়ও কবি শাহ আবদুল করিম অতীতের সম্প্রীতি, পঞ্চাইতের ন্যায়বিচার ও মানুষের সরলতার স্মৃতি রোমন্থন করে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “করি ভাবনা সেদিন আর পাব না”। এভাবে অতীতচারিতা ও বর্তমানের প্রতি অসন্তোষের দিক থেকে রহিম মাস্টার ও কবি অভিন্ন মনোভাব পোষণ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “বিচারব্যবস্থা ও মূল্যবোধের পরিবর্তনই কবির হতাশার মূল কারণ”— উক্তিটি যথার্থ। কবিতায় কবি অতীতের গ্রামীণ জীবনকে সুন্দর বলেছেন। সেখানে বিবাদ ঘটলে পঞ্চাইতের বিচারে “গরিব কাঙালে বিচার পাইতাম”। অর্থাৎ ন্যায়বিচার ছিল সবার জন্য। আবার মানুষ ছিল সরল ও ধর্মবলে বলীয়ান, ক্ষমতার লোভ তাদের ছিল না, তাই কে মেম্বার বা গ্রামসরকার হবে তার খবরও তারা নিত না। কিন্তু বর্তমানে “এখন সবাই পাগল-বড়লোক হইতাম”— সবাই সম্পদের নেশায় উন্মত্ত। এই পরিবর্তনের ফলে সমাজে কঠিন দিন নেমে এসেছে এবং কবি দীনহীন হয়ে পথ খুঁজে পান না। উদ্দীপকেও একই চিত্র দেখা যায়। সালিশের স্থলে থানা-পুলিশ এবং টাকা ছাড়া বিচার না পাওয়ায় গরিব কৃষক বঞ্চিত হয়। যুবকেরা মেম্বার হওয়ার দলাদলিতে মত্ত, আর সবাই টাকার পেছনে ছুটছে। এটি কবিতায় বর্ণিত মূল্যবোধ ও বিচারব্যবস্থার অবক্ষয়ের সঙ্গে মিলে যায়। সুতরাং উদ্দীপক ও কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ন্যায়বিচারের অভাব ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তনই অতীতপ্রীতি ও হতাশার মূল উৎস।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও