বাংলা ১ম পত্র • হামদ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

করিম ও রহিম দুই ভাই। করিম শহরে বড় ব্যবসা করে, তার গাড়ি-বাড়ি সবই আছে। অন্যদিকে রহিম গ্রামে দিনমজুরি করে, অনেক সময় তার পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হয়। রহিম প্রায়ই বলে, “একই মায়ের পেটে জন্ম, তবু কারও কপালে সুখ, কারও কপালে দুঃখ। এ সবই বিধাতার ইচ্ছা।”

  1. ক)

    ‘সপ্ত মহী’ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    ‘সৃজিলেক নৃপত্তি ভুঞ্জয় সুখে রাজ’—চরণটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমের উক্তির সঙ্গে ‘হামদ’ কবিতাংশের কোন চরণের ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের দৃষ্টিভঙ্গি ‘হামদ’ কবিতাংশের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ নয়।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সপ্ত মহী’ বলতে সাত স্তরবিশিষ্ট পৃথিবীকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে কবি বলেছেন, স্রষ্টা রাজা সৃষ্টি করেছেন যিনি সুখে রাজত্ব ভোগ করেন। পরের চরণে বলা হয়েছে, হাতি, ঘোড়া ও লোকজন দিয়ে তাঁকে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, পৃথিবীতে মানুষের মর্যাদা, ক্ষমতা ও ভোগের বিভিন্ন স্তর স্রষ্টাই নির্ধারণ করেছেন। সবাই সমান অবস্থায় জন্মায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমের উক্তির সঙ্গে ‘হামদ’ কবিতাংশের ‘কাকে কৈল সুখ ভোগে সতত আনন্দ। কেহ দুঃখী উপবাসী চিন্তাযুক্ত ধন্দ’ চরণ দুটির ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে। কবিতাংশে কবি বলেছেন, স্রষ্টা কাউকে সুখে-আনন্দে রেখেছেন, আবার কাউকে অভাবী, উপবাসী ও চিন্তাগ্রস্ত করেছেন। উদ্দীপকে করিম বিত্তবান, আর রহিম দিনমজুর, যার পরিবার অনেক সময় অনাহারে থাকে। রহিম একই মায়ের সন্তান হয়েও দুই ভাইয়ের সুখ-দুঃখের পার্থক্যকে বিধাতার ইচ্ছা বলে মনে করে। কবিও মানুষের সুখ-দুঃখের ভিন্নতাকে স্রষ্টার ইচ্ছার অধীন বলে দেখিয়েছেন। এ জায়গায় উভয়ের মিল স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিকভাবে যথার্থ। ১. সংগতিপূর্ণ দিক: কবিতাংশে বলা হয়েছে, স্রষ্টা কাউকে প্রভু (মনিব), কাউকে দাস, কাউকে ধনী, কাউকে ভিক্ষুক, কাউকে গুণী, কাউকে নির্গুণ করেছেন। উদ্দীপকে রহিমও বৈষম্যকে বিধাতার ইচ্ছা বলে মেনে নিয়েছে। ২. অসংগতিপূর্ণ দিক: কবিতাংশে সুখ-দুঃখের পার্থক্যের কথা আছে ঠিকই, কিন্তু কবি এখানে থেমে যাননি। তিনি শুরুতে স্রষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং মানুষকে মহৎ রূপে সৃষ্টি ও অন্নসহ নানা উপকরণ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি স্রষ্টার দয়া ও খেয়ালকে একসঙ্গে দেখেছেন। উদ্দীপকে রহিমের কথায় কেবল অভাবজনিত আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে, স্রষ্টার দানের জন্য কৃতজ্ঞতা বা প্রশংসার সুর নেই। ৩. ফলাফল: দুঃখ ও বৈষম্যকে ভাগ্যের ফল মানার দিকটিতে উভয়ের মিল আছে। কিন্তু কবিতাংশের প্রশংসা, বিশ্বসৃষ্টির বিস্তার ও মানুষের মহত্ত্বের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং, উদ্দীপকের দৃষ্টিভঙ্গি কবিতাংশের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও