সাহিত্য পাঠ • হাড়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
চরাঞ্চলের কৃষক আলতাফ মোল্লা জমিদারের অন্যায় করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেন। তাঁরা বাঁশ ও বেত দিয়ে একটি শক্ত দুর্গ তৈরি করেন এবং সেখানে লাঠি-সড়কি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। জমিদারের লোকবল ও অস্ত্রের তুলনায় তাঁদের শক্তি ছিল সামান্য, তবু তাঁরা পিছু হটেননি। অসম লড়াইয়ে অনেকেই প্রাণ হারান, কিন্তু তাঁদের সাহসের কথা মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
- ক)(1)
‘বাঁশের কেল্লা’ কে নির্মাণ করেন?
- খ)(2)
‘অগ্নির মতো বাঁশের কেল্লা’—বাঁশের কেল্লাকে অগ্নির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলতাফ মোল্লার প্রতিরোধ ‘হাড়’ কবিতার কোন ঐতিহাসিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি ‘হাড়’ কবিতার সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে না।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন তিতুমির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য তিতুমির বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। বাঁশের তৈরি হলেও এই কেল্লা ছিল প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের কেন্দ্র। এখানে অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো এবং অনুসারীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। অগ্নি যেমন দহনশক্তি ও তেজের প্রতীক, তেমনি বাঁশের কেল্লাও অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা সংগ্রামী চেতনার প্রতীক। তাই কবি একে অগ্নির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আলতাফ মোল্লার প্রতিরোধ ‘হাড়’ কবিতার বাঁশের কেল্লা নির্মাণের ঘটনাটির ইঙ্গিত বহন করে। ‘হাড়’ কবিতায় ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য ১৮৩১ সালের ২০শে অক্টোবর তিতুমির বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। অস্ত্র সংরক্ষণ ও অনুসারীদের সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল এর উদ্দেশ্য। উদ্দীপকেও কৃষক আলতাফ মোল্লা অত্যাচারী জমিদারের বিরুদ্ধে বাঁশ-বেতের দুর্গ গড়ে গ্রামবাসীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। দুই ক্ষেত্রেই সীমিত সম্পদ নিয়ে শক্তিশালী শোষকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। এ কারণে উদ্দীপকের ঘটনাটি কবিতার বাঁশের কেল্লার ঘটনাটিকেই মনে করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকটি ‘হাড়’ কবিতার সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে না”—মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কেবল একটি স্থানীয় প্রতিরোধের চিত্র আছে। কৃষক আলতাফ মোল্লা বাঁশের দুর্গ গড়ে জমিদারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। এই দিকটি ‘হাড়’ কবিতার বাঁশের কেল্লা এবং ‘রক্ত ঝরাই ফাঁসির মঞ্চে দ্বীপান্তরে’ চরণের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু কবিতার পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। কবিতায় পলাশির যুদ্ধে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়া, বর্গীর অত্যাচার, ব্রিটিশ শোষণ-নিপীড়ন এবং দুই শতকের পরাধীনতার ইতিহাস রয়েছে। উদ্দীপকে এগুলোর কোনোটির উল্লেখ নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কবিতার শেষ অংশে রক্তের ত্যাগ থেকে ইস্পাতদৃঢ় হাড়ের শক্তি অর্জনের আশাবাদ এবং ‘নতুন দস্যু আসে যদি, দেশ দেবো না তারে’ বলে ভবিষ্যৎ প্রতিরোধের দৃপ্ত ঘোষণা আছে। উদ্দীপক শুধু আত্মত্যাগের কথা বলে, প্রতিরোধের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠার এই ঘোষণা সেখানে অনুপস্থিত। অতএব উদ্দীপক কবিতার একটি অংশমাত্র ধারণ করেছে, সামগ্রিক ভাবকে নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও