ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

ভূগোল শিক্ষক রফিক সাহেব ক্লাসে পৃথিবীর পানির বণ্টনের একটি ছক দেখালেন। ছকে চারটি উৎসের পানি দেখানো হয়েছে: 'ক' উৎসে পৃথিবীর শতকরা ৯৭ ভাগ পানি, 'খ' উৎসে শতকরা ২.০৫ ভাগ পানি, 'গ' উৎসে শতকরা ০.৬৮ ভাগ পানি এবং 'ঘ' উৎসে শতকরা ০.২১ ভাগ পানি রয়েছে। তিনি বললেন, 'খ' উৎসের পানির বেশিরভাগই একটি মহাদেশে সঞ্চিত এবং 'গ' উৎসের পানির প্রধান উৎস বৃষ্টির পানি।

  1. ক)

    সহজাত পানি কী?

    (1)
  2. খ)

    ঘনীভূত পানি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'গ' উৎসের পানি কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' ও 'ঘ' উৎসের পানির পরিমাণ তুলনা করো এবং পৃথিবীর মোট পানির তুলনায় এই তিনটি উৎস ('খ', 'গ', 'ঘ') কতটুকু তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় শিলার মধ্যে যে সামান্য পানি থেকে যায়, তাকে সহজাত পানি (Connate water) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো শিলার ভেতরকার বায়ুর চাপের চেয়ে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের চাপ বেশি হলে জলীয় বাষ্প শিলার ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে। নিম্ন তাপমাত্রার শিলার সংস্পর্শে এসে এই জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঘনীভূত হয়ে পানিতে পরিণত হয়। এভাবে সৃষ্ট পানিকেই ঘনীভূত পানি (Condensed water) বলে। এটি পৃথিবীর পানির একটি উৎস।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'গ' উৎসটি হলো ভূগর্ভস্থ পানি (Infiltrated water), যা পৃথিবীর শতকরা ০.৬৮ ভাগ। এর সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী ও জলাশয়ের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে। ২. মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত হিসেবে ফোঁটাকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। ৩. এই বৃষ্টির পানির কিছু অংশ মাটির ছিদ্র দিয়ে ভূগর্ভে অনুপ্রবেশ করে। এই অনুপ্রবিষ্ট পানিই ভূগর্ভস্থ পানির প্রধান উৎস। অর্থাৎ বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের পানি মাটির নিচে প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ পানি সৃষ্টি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'খ' উৎসটি হলো বরফ ও হিমবাহ (শতকরা ২.০৫ ভাগ) এবং 'ঘ' উৎসটি হলো নদী ও হ্রদের পানি (শতকরা ০.২১ ভাগ)। তুলনা: 'খ' উৎসের পানি 'ঘ' উৎসের পানির প্রায় 2.050.21≈9.76\frac{2.05}{0.21} \approx 9.76 গুণ, অর্থাৎ প্রায় ৯.৮ গুণ। এর কারণ হলো মেরু অঞ্চল ও উচ্চ পর্বতে বিপুল পরিমাণ পানি বরফ ও হিমবাহরূপে জমে আছে এবং এই বরফের শতকরা ৯০ ভাগই এন্টার্কটিকা মহাদেশে সঞ্চিত। অন্যদিকে নদী ও হ্রদের পানি আমাজান, নীল, গঙ্গা, বৈকাল হ্রদ ইত্যাদিতে ছড়িয়ে আছে, যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। মোট পানির তুলনায়: 'খ', 'গ' ও 'ঘ' উৎসের যোগফল =2.05+0.68+0.21=2.94= 2.05 + 0.68 + 0.21 = 2.94 শতাংশ। 'ক' উৎস অর্থাৎ সমুদ্রের পানি ৯৭ শতাংশ হওয়ায় বাকি সব উৎস মিলে মাত্র সামান্য অংশ দখল করে আছে। ফলে দেখা যায়, পৃথিবীর অধিকাংশ পানিই লবণাক্ত সমুদ্রের পানি; যে পানি মানুষের সরাসরি ব্যবহারযোগ্য উৎসগুলোতে (ভূগর্ভ, নদী, হ্রদ) আছে তার পরিমাণ অতি সীমিত, আর বেশিরভাগ স্বাদু পানি বরফরূপে আবদ্ধ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও