রসায়ন • রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reactions)
রসায়ন প্রশ্ন
সুমি চারটি পরীক্ষা নলে সমপরিমাণ সোডিয়াম কার্বনেট () নিয়ে নিচের ছক অনুযায়ী পরীক্ষা করল:
| পরীক্ষা নল | যোগ করা পদার্থ | পর্যবেক্ষণ |
|---|---|---|
| 1 | স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি | কোনো বুদবুদ নেই |
| 2 | স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি + 1 মিলি ভিনেগার | অল্প বুদবুদ |
| 3 | গরম পানি | কোনো বুদবুদ নেই |
| 4 | গরম পানি + 1 মিলি ভিনেগার | সবচেয়ে বেশি বুদবুদ |
- ক)(1)
বিক্রিয়ার হার কাকে বলে?
- খ)(2)
লোহার ব্রিজে মরিচা পড়তে অনেক দিন লাগে কিন্তু NaCl দ্রবণে যোগ করলে তাৎক্ষণিক অধঃক্ষেপ পড়ে—এ থেকে বিক্রিয়ার হার সম্পর্কে কী বোঝা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 2 নং পরীক্ষা নলে যে বিক্রিয়া ঘটেছে তার সমীকরণ লেখো এবং বুদবুদ সৃষ্টিকারী গ্যাসটির নাম লেখো। 1 ও 3 নং নলে বুদবুদ সৃষ্টি হয়নি কেন?
- ঘ)(4)
2 ও 4 নং নলের পর্যবেক্ষণের তুলনা করে বিক্রিয়ার হার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নাও। তাপমাত্রা বিক্রিয়ার হারকে কেন প্রভাবিত করে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একক সময়ে যে পরিমাণ বিক্রিয়ক উৎপাদে পরিণত হয়, তাকে বিক্রিয়ার হার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে বিক্রিয়া অল্প সময়ে সংঘটিত হয় তার হার বেশি এবং যে বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশি সময় লাগে তার হার কম। NaCl দ্রবণে যোগ করলে এক সেকেন্ডের কম সময়ে AgCl এর সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে, তাই এ বিক্রিয়ার হার অনেক বেশি। আবার লোহার ব্রিজে মরিচা পড়তে অনেক দিন সময় লাগে, তাই এর হার খুবই কম। অর্থাৎ বিভিন্ন বিক্রিয়ার হার বিভিন্ন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভিনেগারে এসিটিক এসিড থাকে। এটি সোডিয়াম কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে:
বুদবুদ সৃষ্টিকারী গ্যাসটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড ()।
1 ও 3 নং নলে কেবল ও পানি আছে, কোনো এসিড নেই। তাই এর সাথে বিক্রিয়া করে গ্যাস উৎপন্ন করার মতো কোনো পদার্থ সেখানে নেই। ফলে কোনো বিক্রিয়া ঘটেনি এবং বুদবুদও সৃষ্টি হয়নি; পানি গরম হলেও তাতে ফল পরিবর্তন হয়নি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 2 ও 4 নং নলে বিক্রিয়ক ( ও ভিনেগার) একই এবং সমপরিমাণ, শুধু পানির তাপমাত্রা ভিন্ন। 2 নং নলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অল্প বুদবুদ, আর 4 নং নলে গরম পানিতে সবচেয়ে বেশি বুদবুদ উৎপন্ন হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে 4 নং নলে বেশি পরিমাণ বিক্রিয়ক উৎপাদে পরিণত হয়েছে ও বেশি উৎপন্ন হয়েছে।
সিদ্ধান্ত: 4 নং নলে বিক্রিয়ার হার বেশি, 2 নং নলে কম। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায়।
কারণ: তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়কের অণুগুলোর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, ফলে অণুগুলো দ্রুত চলাচল করে এবং নিজেদের মধ্যে বেশি সংঘর্ষ ঘটায়। সংঘর্ষের সংখ্যা ও কার্যকারিতা বাড়ায় একই সময়ে বেশি অণু উৎপাদে পরিণত হয়। তাই গরম পানিতে বিক্রিয়াটি দ্রুত ঘটে এবং বেশি বুদবুদ সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও