সাহিত্য পাঠ • প্রতিদান
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আয়েশার পাশের বাড়ির সালমা একবার আয়েশাদের বাগানের বেড়া ভেঙে দেয় এবং তার নামে মিথ্যা কথা ছড়ায়। কিছুদিন পর সালমা অসুস্থ হলে আয়েশা প্রতিদিন তার বাড়িতে গিয়ে সেবা করে এবং রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। সালমা লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইলে আয়েশা হেসে বলে, “তোমার ভালো থাকাই আমার চাওয়া।”
- ক)(1)
কবি জসীমউদ্দীন কোন নামে সমধিক পরিচিত?
- খ)(2)
“কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান”—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আয়েশার আচরণে ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“আয়েশার মতো মানুষ বেড়ে উঠলে সমাজ থেকে হিংসা ও বিভেদ দূর হবে।”—‘প্রতিদান’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি জসীমউদ্দীন ‘পল্লিকবি’ নামে সমধিক পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে কবিকে কষ্ট বা আঘাত দিয়েছে, কবি তাকে ভালোবাসা ও কল্যাণ ফিরিয়ে দেন—চরণটিতে এ কথাই বোঝানো হয়েছে। ‘কাঁটা’ এখানে অনিষ্ট, আঘাত ও কষ্টের প্রতীক এবং ‘ফুল’ ভালোবাসা ও উপকারের প্রতীক। কবি প্রতিশোধ না নিয়ে মন্দের বিনিময়ে ভালো করতে চান। তিনি এ আদর্শ সারাটি জনম ধরে পালন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আয়েশার আচরণে ‘প্রতিদান’ কবিতার অনিষ্টকারীর প্রতি ক্ষমা ও ভালোবাসার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি বলেছেন, যে তাঁর ঘর ভেঙেছে তিনি তার ঘর বাঁধেন, যে তাঁকে পর করেছে তাকে আপন করার জন্য কেঁদে বেড়ান। উদ্দীপকে সালমা আয়েশাদের বাগানের বেড়া ভেঙেছে এবং তার নামে মিথ্যা রটিয়েছে। তবু সালমা অসুস্থ হলে আয়েশা প্রতিশোধ না নিয়ে সেবা ও খাবার দিয়ে পাশে দাঁড়ায়। কবির মতোই আয়েশা অপকারের বিনিময়ে উপকার করে, ফলে কবিতার ক্ষমা ও পরার্থপরতার আদর্শ তার আচরণে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যুক্তিযুক্ত। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি সমাজে বিদ্যমান হিংসা, বিভেদ ও হানাহানির বিপরীতে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়তে পারে। তাই যে তাঁকে আঘাত করেছে, তিনি তাকে বিষের বদলে ‘বুকভরা গান’ ও কাঁটার বদলে ফুল দেন। উদ্দীপকে আয়েশা সালমার অন্যায়ের জবাবে শত্রুতা না করে সেবা দিয়েছে। এর ফলে সালমা লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছে এবং দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার তিক্ততা মিটে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। প্রতিশোধ নিলে ঝগড়া আরও বাড়ত, কিন্তু ক্ষমা ও সেবা সম্পর্ককে জোড়া লাগিয়েছে। সমাজের সবাই যদি আয়েশা ও কবির মতো অপকারীকেও আপন করে নিতে শেখে, তবে হিংসা ও বিভেদের জায়গা সংকুচিত হবে। তবে এ আদর্শ কার্যকর করতে ব্যক্তির মানসিক উদারতা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও