‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব হাসান একটি সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় তিনি এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় আসেননি, প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেননি এবং জনস্বার্থবিরোধী একটি বিলকে সমর্থন করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সভা করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে 'ম' দেশের নাগরিকরা সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের আগে সবার মতামত দিয়ে থাকে।

  1. ক)

    নির্বাচকমণ্ডলী কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচকমণ্ডলীকে ক্ষমতার আদি উৎস বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হাসানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পদত্যাগ দাবির মাধ্যমে নির্বাচকমণ্ডলীর কোন ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকাগুলো বিবেচনায় নির্বাচকমণ্ডলীকে 'সরকারের চতুর্থ অঙ্গ' বলা কতটা যুক্তিসংগত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিধি অনুযায়ী যেসব নাগরিক নির্বাচনে ভোটদানের অধিকার লাভ করে, সমষ্টিগতভাবে তাদের নির্বাচকমণ্ডলী বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সংসদীয় পদ্ধতিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। আবার বিচারক নিয়োগকারী রাষ্ট্রপ্রধানও নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক নিযুক্ত হন। এভাবে সরকারের সব ক্ষমতার মূল উৎস নির্বাচকমণ্ডলী, তাই একে ক্ষমতার আদি উৎস বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে হাসানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পদত্যাগ দাবির মাধ্যমে নির্বাচকমণ্ডলীর 'প্রতিনিধি প্রত্যাহার' ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো প্রতিনিধি যদি পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্রমাগত জনমতবিরোধী কাজ করতে থাকেন, তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে পদত্যাগ দাবি করতে পারে। উদ্দীপকে হাসান সেতু ও হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি, এলাকায় আসেননি এবং জনস্বার্থবিরোধী বিলকে সমর্থন করেছেন। তাই এলাকাবাসী সমর্থন প্রত্যাহার করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে, যা নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতিনিধি প্রত্যাহারের ক্ষমতারই প্রকাশ। রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডে এ পদ্ধতি প্রচলিত আছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নির্বাচকমণ্ডলীর দুটি ভূমিকা দেখা যায়: প্রতিনিধি প্রত্যাহার এবং সংবিধান সংশোধনে অংশগ্রহণ। এসব ভূমিকা বিবেচনায় নির্বাচকমণ্ডলীকে সরকারের চতুর্থ অঙ্গ বলা যথেষ্ট যুক্তিসংগত। যুক্তিসমূহ: ১. প্রতিনিধির ওপর নিয়ন্ত্রণ: সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়; তেমনি প্রতিনিধি নির্বাচকমণ্ডলীর সমর্থন হারালে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকে হাসানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পদত্যাগ দাবি তা-ই প্রমাণ করে। ২. সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে ভূমিকা: কোনো কোনো রাষ্ট্রে সংবিধান সংশোধন বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের আগে নির্বাচকমণ্ডলীর মতামত নেওয়া হয়। উদ্দীপকের 'ম' দেশে এটি দেখা যায়। ৩. নীতি নির্ধারণ: গণভোট, গণউদ্যোগ ইত্যাদির মাধ্যমে নির্বাচকমণ্ডলী আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে অংশ নেয়। ৪. সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ: জনস্বার্থবিরোধী নীতির সমালোচনা করে তারা সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। অধ্যাপক গেটেলের মতে, নির্বাচকমণ্ডলী কার্যত সরকারের একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী শাখা। সীমাবদ্ধতা: নির্বাচকমণ্ডলী আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সরকার পরিচালনা করে না এবং তার গঠন-প্রকৃতি ও কার্যনির্বাহ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। উপসংহার: তবু ক্ষমতার আদি উৎস ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে এর বিস্তৃত প্রভাবের কারণে নির্বাচকমণ্ডলীকে সরকারের চতুর্থ অঙ্গ বলা যথেষ্ট যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও