বাংলা ১ম পত্র • আমাদের সংস্কৃতি
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মেলায় দুটি দোকান পাশাপাশি বসেছে। একটিতে মিনা বেগম শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও শাঁখার গয়না বিক্রি করছেন, যা গ্রামের সাধারণ মানুষ কেনে। অন্যটিতে রুপোর অলংকার ও দামি রেশমি কাপড় সাজানো, যার ক্রেতা সাধারণত শহরের ধনী পরিবার। একই মেলায় গ্রামের মানুষ লোকসংগীত শোনে, আর শহরের অভিজাত দর্শকেরা মঞ্চে ধ্রুপদী সংগীত উপভোগ করে।
- ক)(1)
‘আমাদের সংস্কৃতি’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- খ)(2)
“সমাজে উঁচু পর্যায়ে সংস্কৃত বা ফারসির যে-চর্চা হতো তা নিচু স্তরকে স্পর্শ করেনি।”– কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দুটি দোকানের পণ্যে বাংলার কারুশিল্পের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সকলের অধিকার সমান নয়।”– প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের উৎসব’ (২০০৮) গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আগে সমাজে উচ্চবর্গ ও নিম্নবর্গের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভেদ ছিল। উচ্চ শ্রেণির লোকেরা সংস্কৃত বা ফারসি ভাষার চর্চা করত, যা শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল ছিল। সাধারণ মানুষের সেই শিক্ষা ও সুযোগ ছিল না। তাই এসব ভাষার চর্চা নিচু স্তরের মানুষকে স্পর্শ করেনি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দুটি দোকানের পণ্যে বাংলার কারুশিল্পে উচ্চবর্গ ও নিম্নবর্গের ভেদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
‘আমাদের সংস্কৃতি’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, কারুশিল্পের ক্ষেত্রে এই ভেদ বেশি চোখে পড়ে। এর একটি ধারা ছিল উচ্চ শ্রেণির ভোগ্য—রুপোর কাজ, হাতির দাঁতের কাজ, রেশমি ও উঁচু মানের সুতি কাপড়। অন্য ধারাটি ছিল সাধারণের ভোগ্য—শাঁখ ও পিতলের কাজ, নকশিকাঁথা, পাটি, আলপনা।
উদ্দীপকে মিনা বেগমের শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও শাঁখার গয়না সাধারণের ভোগ্য ধারার এবং রুপোর অলংকার ও রেশমি কাপড় উচ্চ শ্রেণির ভোগ্য ধারার উদাহরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, বাংলার সংস্কৃতি আগেও শ্রেণিবিভক্ত ছিল, এখনও তা পুরোপুরি কাটেনি।
১. পণ্য ও ভোগের ভেদ: উদ্দীপকে সাধারণ মানুষ পাটি, কাঁথা ও শাঁখার গয়নার ক্রেতা, আর ধনীরা রুপো ও রেশমের ক্রেতা। এতে সংস্কৃতির উপকরণ ভোগেও শ্রেণিভেদ প্রকাশ পায়।
২. সংগীতের ভেদ: প্রবন্ধে ধ্রুপদী সংগীত ও লোকসংগীত চর্চার মধ্যে পার্থক্যের কথা আছে। উদ্দীপকেও গ্রামের মানুষ লোকসংগীত শোনে, অভিজাতরা ধ্রুপদী সংগীত উপভোগ করে।
৩. লেখকের মন্তব্য: লেখকের মতে, এক শ্রেণির সৃষ্ট সংস্কৃতিতে অন্য শ্রেণির প্রবেশাধিকার নেই, আবার তা অন্য শ্রেণির কাছে রুচিকরও নয়। সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তন না হলে এ অবস্থার বদল আশা করা যায় না।
তবে প্রবন্ধে এ-ও বলা হয়েছে, বাংলার সাহিত্য ও সংগীত সমাজের প্রায় সব স্তরকে স্পর্শ করতে পেরেছে। তবু উদ্দীপকের চিত্র দেখে বলা যায়, উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও