তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
বাংলাদেশ বিমানের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ক্যাডেট পাইলটরা একটি বিশেষ কক্ষে হেডসেট ও গ্লাভস পরে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশে বিমান চালানোর অনুশীলন করেন। ঝড়, ইঞ্জিন বিকল ও জরুরি অবতরণের পরিস্থিতিও সেখানে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করা হয়। অন্যদিকে দশ বছর বয়সী সাজিদ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা একই ধরনের হেডসেট পরে গেম খেলে এবং ইদানীং তার পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে।
- ক)(1)
HMD এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও সাধারণ গ্রাফিক্সের মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ক্যাডেট পাইলটদের প্রশিক্ষণ প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দুটি ঘটনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগে ভিন্নতার কারণ কী? ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের আলোকে সাজিদের ক্ষেত্রে করণীয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর HMD এর পূর্ণরূপ Head Mounted Display।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাধারণ গ্রাফিক্সে মূলত দৃশ্য প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির গ্রাফিক্সে দৃশ্যের পাশাপাশি শব্দ ও স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে হেলমেট বা চশমা (HMD), হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী যা দেখে ও স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি অনুভূত হয়। ফলে একটি কৃত্রিম পরিবেশকে বাস্তব মনে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ক্যাডেট পাইলটদের প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিমুলেটর নামক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীর কাছে বাস্তব মনে হয়। এতে শক্তিশালী কম্পিউটারের সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার করে কোনো পরিবেশ বা ঘটনার ত্রি-মাত্রিক বাস্তবভিত্তিক চিত্রায়ন করা হয়। হেডসেট বা হেলমেটে দুই চোখে ভিন্ন দৃশ্য দেখিয়ে ত্রিমাত্রিক অনুভূতি সৃষ্টি করা হয়, আর গ্লাভস ও বুট স্পর্শের অনুভূতি দেয়। বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয়, যাতে মনে হয় শব্দ নির্দিষ্ট স্থান থেকে আসছে। এভাবে বৈমানিকরা আসল বিমান চালানোর আগেই বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা পান। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পাইলটরা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করছেন, আর সাজিদ বিনোদনের জন্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করছে। ব্যবহারের উদ্দেশ্য, সময় ও বয়সের ভিন্নতার কারণেই ফল ভিন্ন হয়েছে।
ইতিবাচক প্রভাব: ফ্লাইট সিমুলেটরে ঝড়, ইঞ্জিন বিকল প্রভৃতি বিপজ্জনক পরিস্থিতি জীবনের ঝুঁকি ছাড়াই অনুশীলন করা যায়। এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিনোদন ক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র ও গেম জনপ্রিয়।
নেতিবাচক প্রভাব: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় কমবয়সিদের প্রতিক্রিয়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে অনেক তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর যথেচ্ছ ব্যবহার তাদের শিখন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাজিদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া এর প্রমাণ।
সাজিদের ক্ষেত্রে করণীয়: অভিভাবকদের উচিত তার ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের সময় সীমিত করা, শিক্ষামূলক কাজে (যেমন- ভার্চুয়াল ভ্রমণ বা সিমুলেশনের মাধ্যমে পাঠ) ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং খেলাধুলা ও পড়াশোনার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
অতএব, উদ্দেশ্যমূলক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই প্রযুক্তিকে উপকারী করে, আর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমবয়সিদের জন্য ক্ষতিকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও