জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

কৃষক জামাল মিয়ার পায়ে ধান কাটার সময় কাঁটা ফুটে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানটি লাল হয়ে যায়, গরম অনুভূত হয়, ফুলে ওঠে এবং ব্যথা শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা পরে দেখা গেল ওই স্থানে সাদা কোষ জমা হয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

  1. ক)

    কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রদাহের সময় ক্ষতস্থান ফুলে ওঠে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জামাল মিয়ার পায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ধারাবাহিক ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ ঘটনায় ক্ষতস্থানে জড়ো হওয়া কোষ ও দেহের অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবস্থা কীভাবে জামাল মিয়ার সংক্রমণ দমনে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অন্তত ২০ ধরনের প্লাজমা প্রোটিনে গঠিত যে আন্তঃসম্পর্কিত গ্রুপ নিষ্ক্রিয়ভাবে রক্তে সংবাহিত হয়ে অন্যান্য প্রতিরক্ষা পদ্ধতিকে সহায়তা করে, তাকে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্ষতস্থানে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং হিস্টামিনের প্রভাবে কৈশিকনালির প্রাচীর বেশি ভেদ্য হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিউট্রোফিল এবং রক্তজমাটের ফ্যাক্টর, অক্সিজেন ও পুষ্টি পদার্থসহ তরল পদার্থ রক্তনালি থেকে টিস্যুতে বেরিয়ে আসে। এই তরল ও কোষ জমে ক্ষতস্থান ফুলে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামাল মিয়ার পায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রদাহ-সাড়া বা প্রদাহ। এর ধারাবাহিক ঘটনা হলো: ১. টিস্যুর ক্ষতি হলে ক্ষতস্থানে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে স্থানটি প্রথমে লাল হয়ে যায়। ২. রক্তপ্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় তাপমাত্রাও বাড়ে, ফলে স্থানটি গরম হয়। ৩. হিস্টামিনের প্রভাবে কৈশিকনালি বেশি ভেদ্য হয়, নিউট্রোফিল ও তরল বেরিয়ে এসে ক্ষতস্থানকে ফুলিয়ে দেয়। ৪. সবশেষে ব্যথার প্রকাশ ঘটে। ৫. নিউট্রোফিল জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও মৃতকোষ ভক্ষণ শুরু করে। এভাবে লাল হওয়া, গরম হওয়া, ফোলা ও ব্যথা—এই চারটি ধাপ নিয়ে প্রদাহ-সাড়া গঠিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্ষতস্থানে জড়ো হওয়া কোষগুলো প্রধানত নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজ। এদের সঙ্গে কমপ্লিমেন্ট ব্যবস্থাও সংক্রমণ দমনে কাজ করে। ১. নিউট্রোফিল: রক্তকণিকার মধ্যে এরা সবার আগে ক্ষতস্থানে পৌঁছে ক্ষণপদীয় চলনের মাধ্যমে জীবাণু ও মৃতকোষ গ্রাস করে। একটি নিউট্রোফিল ৩–২০টি ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করে এবং পরে মারা যায়। ২. ম্যাক্রোফেজ: নিউট্রোফিলের পর ম্যাক্রোফেজ আবির্ভূত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রতি-আক্রমণ চালায়। একটি ম্যাক্রোফেজ প্রায় ১০০টি ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে এবং সাইটোকাইন ক্ষরণ করে প্রয়োজনীয় কোষকে একত্র করে ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। ৩. কমপ্লিমেন্ট: এটি সক্রিয় হয়ে জীবাণুর গায়ে আটকে থাকে এবং নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে কোষভক্ষণে সহায়তা করে। এছাড়া রক্তবাহিকা প্রসারিত করে প্রদাহকে ত্বরান্বিত করে এবং ফ্যাগোসাইটকে ক্ষতস্থানে দ্রুত পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই সম্মিলিত ব্যবস্থার ফলে জীবাণু ধ্বংস হয়ে ক্ষত নিরাময় ঘটে এবং সংক্রমণ গভীরে ছড়াতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও