সাহিত্য পাঠ • ঐকতান

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিতু কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রের একটি দল গঠন করেছে। দলে হারমোনিয়াম, বাঁশি ও তবলার পাশাপাশি সে গ্রামের এক বাউলের কাছ থেকে একতারা বাজানো শিখে আসা ছেলে রনিকেও রেখেছে। অনেকে রনির সাদামাটা একতারাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানে সব যন্ত্রের সুর মিলে যখন এক হলো, দর্শকেরা মুগ্ধ হলেন এবং রনি সবচেয়ে বেশি করতালি পেল।

  1. ক)

    ‘ঐকতান’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “মুক যারা দুঃখে সুখে, নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে”— চরণটিতে কাদের কথা বলা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রনির একতারা বাজানোর ঘটনাটি ‘ঐকতান’ কবিতার কোন চরণের ভাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের বাদ্যদলই ‘ঐকতান’ নামকরণের সার্থকতা তুলে ধরে।”— কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ঐকতান’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে সৃষ্ট সুর বা সমস্বর। কবিতায় এটি বহু মানুষের কথা বলা সাহিত্য-সুরকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে সমাজের সেইসব উপেক্ষিত ও প্রান্তিক মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা দুঃখ-সুখ নীরবে সহ্য করে। তারা নিজেদের কথা প্রকাশ করার সুযোগ বা সাহস পায় না। এগিয়ে চলা পৃথিবীতে তারা আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। কবি চান, সাহিত্যে এই নির্বাক মানুষেরাও যেন কণ্ঠস্বর ও সম্মান পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রনির একতারা বাজানোর ঘটনাটি ‘ঐকতান’ কবিতার “একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়” চরণের ভাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কবিতায় কবি চেয়েছেন, সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় সাধারণ ও অবজ্ঞাত মানুষের অবদানও যেন যথাযথ সম্মান পায়। একতারা এখানে সাধারণ মানুষের সরল ও অনাড়ম্বর প্রকাশের প্রতীক। উদ্দীপকে হারমোনিয়াম, বাঁশি ও তবলার পাশে একতারা প্রথমে উপহাসের পাত্র হলেও শেষ পর্যন্ত রনিই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পায়। এভাবে সাদামাটা বলে যা তুচ্ছ মনে হয়েছিল, তারও যে মূল্য আছে তা প্রমাণিত হয়। কবির প্রত্যাশা এবং উদ্দীপকের ঘটনা তাই একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘ঐকতান’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে সৃষ্ট সমস্বর। রবীন্দ্রনাথ কবিতায় সাহিত্যকে এমন এক সংগীতসভার মতো দেখেছেন, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের জীবন ও বাণীর সুর মিলিত হবে। তাঁর মতে, চাষি, তাঁতি, জেলে এবং অখ্যাত ও নির্বাক মানুষকে বাদ দিলে সাহিত্যের সুর অপূর্ণ ও কৃত্রিম থেকে যায়। উদ্দীপকে হারমোনিয়াম, বাঁশি, তবলা ও একতারা আলাদা আলাদা যন্ত্র হলেও সব মিলে এক সুরে বাজায় অনুষ্ঠান সার্থক হয়েছে। এখানে সাদামাটা একতারাও গুরুত্ব পেয়েছে, যেমন কবি চেয়েছেন সাহিত্যে একতারা যাদের তারাও সম্মান পাবে। এ থেকে বোঝা যায়, ঐকতান মানে সব সুরের সমান মর্যাদায় মিলন। উদ্দীপকের বাদ্যদল কবিতার এই মূল ভাবনাকেই ফুটিয়ে তোলে, ফলে নামকরণের সার্থকতাও প্রমাণিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও