সাহিত্য পাঠ • জাদুঘরে কেন যাব
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের প্রাচীন স্বর্ণমুকুট ঔপনিবেশিক আমলে ইউরোপের এক শক্তিশালী দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন সেখানকার একটি বিখ্যাত জাদুঘরে মুকুটটি প্রদর্শিত হয় এবং প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করে তা দেখে। মুকুটের মূল দেশটি বহুবার তা ফেরত চাইলেও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এতে সারা বিশ্বের মানুষ মুকুটটি দেখার সুযোগ পাচ্ছে।’
- ক)(1)
লেখক টাওয়ার অফ লন্ডনে ভিড় করে কী দেখেছিলেন?
- খ)(2)
“জাদুঘর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের জায়গা বটে, তবে তা সবসময়ই নিজের জিনিস হবে এমন কথা নেই”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের বক্তব্যের একটি দিক ফুটে উঠলেও অপর দিকটি অনুপস্থিত”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক টাওয়ার অফ লন্ডনে ভিড় করে কোহিনূর হীরা দেখেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাদুঘরে সাধারণত কোনো জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত থাকে, তাই এটি উত্তরাধিকারের স্থান। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো অন্য দেশ থেকে মূল্যবান নিদর্শন নিজেদের দেশে নিয়ে গিয়ে জাদুঘরে সাজিয়ে রেখেছে। টাওয়ার অফ লন্ডনে প্রদর্শিত কোহিনূর তার একটি দৃষ্টান্ত। ফলে জাদুঘরে রক্ষিত অনেক নিদর্শন সেই দেশের নিজস্ব সম্পদ নয়, বরং অন্যের উত্তরাধিকার। প্রাবন্ধিক এ কথাই বুঝিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রবন্ধের সেই বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে অন্যের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকার হরণ করে এনেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিজেদের জাদুঘরকে কুণ্ঠিত বোধ করে না। প্রাবন্ধিক টাওয়ার অফ লন্ডনে কোহিনূর দেখতে গিয়ে এই উপলব্ধি করেছিলেন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঔপনিবেশিক আমলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের স্বর্ণমুকুট ইউরোপের জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মূল দেশের বারবার দাবি সত্ত্বেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এই আচরণে কোনো কুণ্ঠা নেই। তাই উদ্দীপকটি প্রবন্ধের ওই বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে প্রবন্ধের বক্তব্যের কেবল একটি দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক ক্ষমতার জোরে একটি দেশের প্রাচীন স্বর্ণমুকুট ইউরোপের জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কর্তৃক অন্যের ঐতিহ্য হরণ ও সেই নিদর্শন নিজেদের জাদুঘরে প্রদর্শনের কথা বলেছেন, যেমন টাওয়ার অফ লন্ডনের কোহিনূর। সুতরাং উদ্দীপকে এই সমালোচনামূলক দিকটি স্পষ্ট।
কিন্তু প্রাবন্ধিক সেখানেই থেমে যাননি। তিনি স্বীকার করেছেন, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে নানা দেশের নানা নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে এবং সংগ্রহের উপায় আপাতত পাশে রেখে সেগুলো দেখলে অভিনব মানবতার সন্ধান পাওয়া যায়। তখন মনে হয়, বিভিন্ন দেশে ও কালে মানুষ যা কিছু করেছে তার সবকিছুর মধ্যেই আমি আছি। অন্য জাতির কীর্তির সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করলে মানুষ বৃহত্তর মানবসমাজে উত্তীর্ণ হয়। উদ্দীপকে এই মানবিক ও বিশ্বজনীন উপলব্ধির কোনো প্রকাশ নেই; কর্মকর্তার মন্তব্যে কেবল প্রদর্শনের যুক্তি আছে, মানবতার বোধ নেই।
অতএব, উদ্দীপকে প্রবন্ধের নিদর্শন-হরণের সমালোচনার দিকটি থাকলেও মানবতার সন্ধানের দিকটি অনুপস্থিত। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও