ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • দিল্লি সালতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

শহরের নবনির্বাচিত মেয়র জনাব সাদেক দায়িত্ব নিয়ে দেখলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানছে না এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তিনি সমগ্র নগরকে কয়েকটি ওয়ার্ডে ভাগ করেন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন কমিশনার নিয়োগ করেন, যাঁর দায়িত্ব শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও কর আদায়। সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি নিজ কার্যালয়ের সামনে একটি ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখেন, যা বাজিয়ে যে-কেউ সরাসরি মেয়রের কাছে বিচার চাইতে পারত। অল্প সময়ে নগরে শান্তি ফিরে এল।

  1. ক)

    কোন আব্বাসীয় খলিফা ইলতুৎমিশকে ‘সুলতান-ই-আজম’ খেতাব প্রদান করেন?

    (1)
  2. খ)

    ইলতুৎমিশকে দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মেয়র সাদেকের গৃহীত পদক্ষেপ ইলতুৎমিশের কোন কোন প্রশাসনিক নীতির প্রতিফলন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পদক্ষেপ ছাড়াও ইলতুৎমিশের অন্যান্য কৃতিত্ব বিশ্লেষণ করে তাঁকে দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার যৌক্তিকতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আব্বাসীয় খলিফা মুস্তাসিম বিল্লাহ ১২২৯ খ্রিষ্টাব্দে ইলতুৎমিশকে ‘সুলতান-ই-আজম’ খেতাব প্রদান করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কুতুবউদ্দীন আইবেক দিল্লিতে সালতানাতের সূচনা করলেও তাঁর মৃত্যুর পর আরাম শাহের দুর্বলতায় সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ ও অরাজকতা দেখা দেয়। ইলতুৎমিশ সিংহাসনে বসে এই সংকট দৃঢ়হাতে দমন করেন। তিনি বিদ্রোহী আমির ও শাসকদের পরাস্ত করেন, মোঙ্গল আক্রমণ থেকে সালতানাত রক্ষা করেন এবং নতুন রাজ্য জয় করেন। এছাড়া প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলে ও খলিফার স্বীকৃতি লাভ করে তিনি সালতানাতকে স্থায়ী ভিত্তি দেন। এজন্য ঐতিহাসিক লেনপুল তাঁকে দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মেয়র সাদেকের গৃহীত পদক্ষেপ ইলতুৎমিশের ইকতা ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নীতির প্রতিফলন। উদ্দীপকে মেয়র নগরকে ওয়ার্ডে ভাগ করে প্রতিটিতে কমিশনার নিয়োগ করেন, যাঁর দায়িত্ব শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও কর আদায়। ইলতুৎমিশও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতিপয় ইকতায় ভাগ করেন এবং প্রতিটি ইকতায় ‘মুক্তা’ বা ইকতাদার নিয়োগ করে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেন। আবার উদ্দীপকে অভিযোগ জানানোর জন্য ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ইলতুৎমিশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অনুরূপ। ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত প্রজারা ইলতুৎমিশের দরবারে ঝুলানো শিকলে বাঁধা ঘণ্টা বাজিয়ে সরাসরি সুলতানের কাছে বিচার প্রার্থনা করতে পারত। অতএব, উদ্দীপকের পদক্ষেপ দুটি ইলতুৎমিশের ইকতা ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের নীতিরই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মেয়র সাদেকের পদক্ষেপ ইলতুৎমিশের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশবিশেষ। তবে এর বাইরেও ইলতুৎমিশের এমন বহু কৃতিত্ব রয়েছে, যার ভিত্তিতে তাঁকে দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যুক্তিযুক্ত। প্রথমত, আরাম শাহের আমলে সাম্রাজ্য খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়ে; সিন্ধুতে কুবাচা, গজনি-লাহোরে ইয়ালদুজ ও লক্ষ্মণাবতীতে খলজি মালিকরা স্বাধীন হয়ে ওঠেন। ইলতুৎমিশ ১২১৬ সালে তরাইনের নিকটে ইয়ালদুজকে পরাজিত ও বন্দি করেন এবং কুবাচাকে পরাজিত করেন (১২১৭ ও ১২২৮ সালে)। দ্বিতীয়ত, ১২২১ সালে চেঙ্গিস খান খাওয়ারিজম আক্রমণ করলে পলাতক শাহ জালালউদ্দীন দিল্লিতে আশ্রয় চাইলে ইলতুৎমিশ কৌশলে তা প্রত্যাখ্যান করেন, ফলে মোঙ্গলরা ভারত আক্রমণ না করে ফিরে যায়। তৃতীয়ত, ১২২৫ সালে বাংলার বিদ্রোহী গিয়াসউদ্দীন খলজিকে দমন করে বাংলাকে সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং রণথম্ভর, মান্দোর, গোয়ালিয়র, ভিলসা ও উজ্জয়িনী জয় করে রাজ্যের সীমা বাড়ান। চতুর্থত, ১২২৯ সালে আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে ‘সুলতান-ই-আজম’ খেতাব লাভ করে সালতানাতকে আইনসম্মত মর্যাদা দেন। পঞ্চমত, তিনি উজির, দেওয়ান-ই-আরজ, দেওয়ান-ই-রিসালাসহ বিভিন্ন দপ্তর স্থাপন করেন এবং আরবীয় রীতিতে রৌপ্য ‘টাঙ্কা’ ও তাম্র মুদ্রা প্রচলন করেন। এছাড়া কুতুবমিনার সম্পূর্ণ করে এবং বহু মাদ্রাসা-মক্তব স্থাপন করে তিনি শিল্প ও শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এসব কারণেই ঐতিহাসিক লেনপুল ও ড. ঈশ্বরী প্রসাদ তাঁকে দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন। সুতরাং ইলতুৎমিশকে এই উপাধি দেওয়া সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও