বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করছে। সে 'ক' নামক একটি উন্নয়নশীল দেশের এক বছরের কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে: রপ্তানি আয় ৫,০০০ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ব্যয় ৭,৪০০ মিলিয়ন ডলার। একই বছর দেশটি বিশ্ব ব্যাংক থেকে সুদসহ ফেরতযোগ্য ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান থেকে ফেরতযোগ্য নয় এমন ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে।

  1. ক)

    বৈদেশিক অনুদান কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশকে ঘাটতির দেশ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নির্ণয় করো এবং এই ঘাটতি কমানোর দুটি উপায় ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ধরনের বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে পার্থক্য দেখাও এবং বিশ্লেষণ করো, কোনটি দেশের উন্নয়নের জন্য বেশি সুবিধাজনক।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৈদেশিক অনুদান হলো এমন সব সহায়তা যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় এবং যা পরিশোধ করতে হয় না।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রপ্তানি হলো কোনো দেশের আয়ের উৎস আর আমদানি ব্যয়ের খাত। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দীর্ঘ সময় ধরেই আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম। আমরা মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ইত্যাদি প্রচুর আমদানি করি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনে বাংলাদেশ সবসময়ই ঘাটতির দেশ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাণিজ্য ঘাটতি = আমদানি ব্যয় − রপ্তানি আয় = 7400−5000=24007400 - 5000 = 2400 মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    অতএব, 'ক' দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২,৪০০ মিলিয়ন ডলার।

    ঘাটতি কমানোর উপায়:

    ১. রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, ওষুধ ইত্যাদি রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়িয়ে এবং নতুন বাজার খুঁজে রপ্তানি আয় বাড়ানো যায়।

    ২. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি: দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি এবং প্রবাসীদের আয়ের প্রবাহ বাড়ালে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ে এবং ঘাটতি হ্রাস পায়। পাঠ্যবই অনুযায়ী সাম্প্রতিককালে এ কারণেই বাংলাদেশের ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বিশ্ব ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সহায়তা বৈদেশিক ঋণ এবং জাপান থেকে প্রাপ্ত সহায়তা বৈদেশিক অনুদান।

    পার্থক্য:

    ১. বৈদেশিক ঋণ হলো এমন নগদ বা পণ্য সহায়তা, যা সুদসহ অথবা সুদ ছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে অনুদান নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় এবং তা পরিশোধ করতে হয় না।

    ২. ঋণ পরিশোধের দায় ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, অনুদানে এমন কোনো দায় থাকে না।

    বিশ্লেষণ: অনুদান পরিশোধ করতে হয় না বলে উন্নয়ন কর্মসূচিতে তা দেশের জন্য অধিক সুবিধাজনক। কিন্তু অনুদানের পরিমাণ সাধারণত সীমিত এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য দেওয়া হয়। উদ্দীপকে অনুদান ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর ঋণ ১০০ মিলিয়ন ডলার। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন হয়। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সবটা জোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ঋণও অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

    তাই দায়মুক্তির দিক থেকে অনুদান বেশি সুবিধাজনক হলেও, বিপুল চাহিদা মেটাতে ঋণ প্রয়োজন। ঋণ নেওয়ার সময় তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হলে এবং রপ্তানি ও আয় বাড়ানো গেলে ঋণ পরিশোধ সহজ হয়। সুতরাং অনুদান সুবিধাজনক, কিন্তু ঋণ ও অনুদান উভয়ের সুষ্ঠু ব্যবহারই উন্নয়নের জন্য কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও