পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'P' ও 'Q' দুটি দেশের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তুলনা করছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিতু। 'P' দেশে নির্বাচনের সময় সরকারি ও বিরোধী দল পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য বজায় রাখে, কারণ জনগণ সহিংসতা, অপপ্রচার ও হরতালকে সমর্থন করে না। 'Q' দেশে প্রায়ই রাজনীতির নামে হানাহানি ঘটে এবং নেতারা তা পরোক্ষে মদদ দেন। তবে সম্প্রতি সেখানকার জনগণ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
- ক)(1)
'Civic Culture' গ্রন্থের রচয়িতা কারা?
- খ)(2)
জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' দেশে জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে কোন সম্পর্ক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'Q' দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে জনমতের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'Civic Culture' গ্রন্থের রচয়িতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালমন্ড (Almond) ও ভার্বা (Verba)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো: প্রথমত, জনমত অপেক্ষাকৃত কম স্থায়ী, আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত স্থায়ী। দ্বিতীয়ত, জনমত ধীরে ধীরে কিংবা দ্রুত সংগঠিত হতে পারে এবং এর পেছনে বহির্বিশ্বের প্রভাবও থাকতে পারে; কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'P' দেশে জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। জনমত যেদিকে থাকে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি সেভাবেই গড়ে ওঠে—এটাই এ সম্পর্কের মূল কথা। 'P' দেশের জনগণ সহিংসতা, অপপ্রচার ও হরতালকে সমর্থন করে না। এই শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট জনমতের কারণেই সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সুসম্পর্ক, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহনশীলতা এবং উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনেও জনমতের কারণে এমন সংস্কৃতি লক্ষ করা যায়। আবার উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি যুক্তিসঙ্গত জনমত গঠনেও সাহায্য করে। সুতরাং 'P' দেশে জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'Q' দেশে রাজনীতির নামে হানাহানি ও নেতাদের পরোক্ষ মদদ রয়েছে, যা অনুন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনমতের ভূমিকা অপরিসীম। ১. নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা: জনগণ যদি হানাহানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় অর্থাৎ জনমত বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হতে বাধ্য। উদ্দীপকে 'Q' দেশের জনগণের সোচ্চার হওয়া এই পথেরই সূচনা। ২. নেতৃত্বকে জনস্বার্থমুখী করা: জনমত শক্তিশালী হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনস্বার্থ বিবেচনা করে স্বার্থপরতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে জনকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করেন। ৩. শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান: জনমত শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে মত দেয় বলে সহিংস কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না। ৪. মূল্যবোধ ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা: বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত মতামত সুসংগঠিত জনমতে রূপ নিলে সুদৃঢ় মূল্যবোধসম্পন্ন, সহনশীল ও উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। উপসংহারে বলা যায়, 'Q' দেশের জনগণ যদি এই সোচ্চার অবস্থান ধরে রাখে, তবে সেখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমান্বয়ে 'P' দেশের মতো উন্নত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও