বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নিচের ছকে P ও Q দুটি দেশের কিছু তথ্য দেওয়া হলো:

বিষয়P দেশQ দেশ
মাথাপিছু আয় (বার্ষিক)৬৫,০০০ মার্কিন ডলার৪০০ মার্কিন ডলার
জাতীয় উৎপাদনে প্রধান খাতশিল্পকৃষি
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হারউচ্চঅত্যন্ত নিম্ন
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারঅত্যন্ত কমউচ্চ
বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতানেই বললেই চলেঅত্যধিক
  1. ক)

    উন্নত দেশ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অনুন্নত দেশে সঞ্চয়ের হার কম হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের Q দেশটি কীভাবে দারিদ্র্যের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    Q দেশকে P দেশের মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে হলে উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে? তোমার সুপারিশ উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং এই উন্নয়ন দীর্ঘ মেয়াদে অব্যাহত আছে, এমন দেশকে উন্নত দেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অনুন্নত দেশে জনগণের মাথাপিছু আয় কম। তাই তাদের আয়ের সবটাই খাদ্য, বস্ত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ভোগের জন্য ব্যয় হয়ে যায়। ফলে সঞ্চয় করার মতো উদ্বৃত্ত আয় থাকে না। এ কারণে এসব দেশে সঞ্চয়ের হার অত্যন্ত কম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের Q দেশটির মাথাপিছু আয় অত্যন্ত কম, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার নিম্ন এবং কৃষিনির্ভর। এটি অনুন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী অনুন্নত দেশে দারিদ্র্যচক্র নিম্নরূপে ঘটে:

    ১. মাথাপিছু আয় কম বলে জনগণের আয়ের সবটাই ভোগে ব্যয় হয়, ফলে সঞ্চয়ের হার অত্যন্ত কম হয়।
    ২. সঞ্চয় কম হওয়ায় মূলধন বা পুঁজির স্বল্পতা দেখা দেয় এবং বিনিয়োগের হার নিম্নমুখী হয়।
    ৩. বিনিয়োগ কম বলে নতুন উৎপাদন ও শিল্প স্থাপনের গতি মন্থর হয়, নতুন কর্মসংস্থান হয় না এবং বেকারত্ব বাড়ে।
    ৪. বেকারত্বের কারণে মাথাপিছু আয় আরও কম হতে থাকে।

    এভাবে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন সঞ্চয়, নিম্ন বিনিয়োগ, বেকারত্ব এবং আবার নিম্ন আয়ের চক্রে Q দেশটি আবর্তিত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে P দেশ উন্নত দেশের এবং Q দেশ অনুন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। Q দেশকে P দেশের পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন:

    ১. শিল্পায়ন: P দেশের অর্থনীতি শিল্পনির্ভর, আর Q কৃষিনির্ভর। Q দেশকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে ক্রমে মৌলিক ও বৃহদায়তন শিল্পের দিকে এগোতে হবে এবং কৃষিকে আধুনিক করতে হবে।

    ২. সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার বাড়াতে হবে। এজন্য ব্যাংক ও ঋণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।

    ৩. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: P দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম বলে মাথাপিছু আয় বাড়ে। Q দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

    ৪. অবকাঠামো উন্নয়ন: পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো অর্থনৈতিক এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।

    ৫. বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস: অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ ও রপ্তানি বাড়িয়ে বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে Q দেশ ধীরে ধীরে P দেশের মতো উন্নত অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও