ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা প্রায় প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি উপকূলীয় ইউনিয়নে সরকার সমুদ্র ও নদীর তীর বরাবর মাটির উঁচু বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং কয়েকটি বহুতল আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। এছাড়া এলাকার মানুষ ঘরের ভিটা অনেক উঁচু করে বাড়ি তৈরি করছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগ সম্পর্কে গ্রামবাসীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
- ক)(1)
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চারটি মূল বিষয় কী কী?
- খ)(2)
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উপকূলীয় ইউনিয়নের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধের পাশাপাশি পূর্বপ্রস্তুতি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চারটি মূল বিষয় হলো প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ঘটে, যার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই এসব দুর্যোগ ঘটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে বেড়িবাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। এ কারণে দুর্যোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা না গেলেও এর প্রভাব হ্রাস করা সম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দুর্যোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে—
১. বেড়িবাঁধ নির্মাণ: নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা দুর্যোগের কবলে বেশি পড়ে। বাঁধ নির্মাণ করে জনগণ, সম্পদ ও পরিবেশকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করা যায়।
২. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: দুর্যোগের পূর্বে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।
৩. ঘরবাড়ি নির্মাণ পদ্ধতি: ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় ভিটা উঁচু করে বাড়ি তৈরি করলে পানি ঘরে ঢুকতে পারে না।
৪. প্রশিক্ষণ প্রদান: দুর্যোগের ভয়াবহতা ও করণীয় সম্পর্কে আগেভাগে প্রশিক্ষণ দিলে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইউনিয়নে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু ভিটা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তাই পূর্বপ্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্বপ্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থাগুলোকে বোঝায়। যেমন—
১. ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ: চিহ্নিত এলাকায় আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে ঝুঁকি কমে।
২. দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন: পরিকল্পনা থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।
৩. আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যভিত্তিক সতর্কবার্তা পেলে মানুষ সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে।
উদ্দীপকে আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও মানুষ যদি সময়মতো সতর্কবার্তা না পায় বা কোথায় যেতে হবে না জানে, তবে অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে আসবে না। প্রতিরোধ ও পূর্বপ্রস্তুতি একসাথে থাকলে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতি সর্বনিম্ন করা যায়। কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ফলেই ১৯৬০ সালের পর থেকে দুর্যোগজনিত মৃত্যুর হার কমে এসেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও