ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

শহরের উপকণ্ঠে একটি নদীর তীরে চামড়া ও রাসায়নিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানার তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয় এবং নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। প্রায়ই মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। নদীর পাশের গ্রামের মানুষ নলকূপের পানি পান করে। কিন্তু সেখানকার অনেকের হাত ও পায়ের তালুতে অর্বুদ দেখা দিয়েছে এবং ত্বকের রং বদলে গেছে।

  1. ক)

    আর্সেনিক কী?

    (1)
  2. খ)

    ভারি ধাতু বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর পানি দূষণের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামের মানুষের শারীরিক সমস্যা এবং নদীর জলজ জীবের ক্ষতির কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আর্সেনিক একটি বিষাক্ত মৌলিক পদার্থ, যা ২৪০টিরও বেশি খনিজ পদার্থের সাথে একটি অংশ হিসেবে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে ধাতুর পারমাণবিক সংখ্যা ২৩-এর বেশি তাকে ভারি ধাতু বলে। যেমন— ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, কপার, জিংক, লেড ইত্যাদি। রেডিয়াম, প্লুটোনিয়াম, কোবাল্টও তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়ে পানিতে মিশে যায়। পানির সাথে এসব ধাতু মানুষের দেহে ঢুকলে বিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা হয় ও দৈহিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নদীর পানি কালচে হয়ে যাওয়া ও মাছ মারা যাওয়া পানি দূষণের লক্ষণ। এর কারণ নিম্নরূপ: ১. শিল্পের আবর্জনা: চামড়া ও রাসায়নিক শিল্পের বর্জ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো সরাসরি নদীতে ফেললে নদীর পানি কলুষিত হয়। শিল্পবিপ্লবের শুরু থেকেই এটি নদী ও সমুদ্রের পানি দূষণের প্রধান কারণ। ২. ভারি ধাতু: চামড়া শিল্পের বর্জ্যে ক্রোমিয়াম জাতীয় ভারি ধাতু থাকে, যা পানিতে মিশে জলজ জীবের ক্ষতি করে ও মাছ মরে যায়। ৩. এসিডের আধিক্য: রাসায়নিক বর্জ্যে পানিতে এসিডের হার বাড়লে বহু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী টিকতে পারে না। এভাবে শিল্পবর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে গ্রামের মানুষের হাত ও পায়ের তালুতে অর্বুদ এবং ত্বকের রং পরিবর্তন আর্সেনিকজনিত দূষণের লক্ষণ, আর নদীতে মাছ মরে যাওয়া শিল্পবর্জ্যজনিত দূষণের ফল। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: মানুষের সমস্যা: ১. আর্সেনিক দূষণ: আর্সেনিক যৌগ পানিতে দ্রবণীয়। বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকায় অনুমোদিত মাত্রার ১০০ গুণ বেশি আর্সেনিক পাওয়া যায়। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে প্রথমে চামড়ার রং বদলায়, পরে হাত-পায়ের তালুতে অর্বুদ সৃষ্টি হয়। ২. পরিণতি: অবস্থা গুরুতর হলে চামড়া ও যকৃতে ক্যানসার হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও ঘটতে পারে। জলজ জীবের ক্ষতি: ৩. বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারি ধাতু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে জমা হয় ও তাদের মৃত্যু ঘটায়। ৪. কারখানার বর্জ্যে পানির এসিডের হার বাড়ে এবং পানির অক্সিজেন কমে যায়, ফলে মাছসহ জলজ জীব বাঁচতে পারে না। সুতরাং গ্রামবাসীর সমস্যা আর্সেনিকযুক্ত পানির কারণে এবং নদীর জলজ জীবের ক্ষতি শিল্পবর্জ্য ও ভারি ধাতুর কারণে হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করলে উভয় ক্ষতি বাড়তেই থাকবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও