ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' দ্বীপরাষ্ট্রে সম্প্রতি একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এতে কার্বন মনোক্সাইড ও সালফারযুক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে আশপাশের বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়েছে। অন্যদিকে 'খ' দেশের শিল্পাঞ্চলের কারখানা ও রেফ্রিজারেটর থেকে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বায়ুমণ্ডলে মিশছে। ফলে সেখানকার গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উপকূলের অনেক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

  1. ক)

    গ্রিন হাউস গ্যাস কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গ্রিন হাউস প্রভাব বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'খ' দেশের উপকূল প্লাবিত হওয়ার কারণ গ্রিন হাউস প্রভাবের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' উভয় দেশের ঘটনার আলোকে দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাসসমূহ, যেমন: মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, সিএফসি ও ওজোনকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন প্রভৃতি গ্যাসের তাপ ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। এ গ্যাসগুলো সূর্যের তাপ আটকে রেখে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এ প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস প্রভাব বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে 'খ' দেশের উপকূল প্লাবিত হওয়ার মূল কারণ গ্রিন হাউস প্রভাবজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

    'খ' দেশের শিল্পাঞ্চলের কারখানা ও রেফ্রিজারেটর থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বায়ুমণ্ডলে মিশছে। এগুলো গ্রিন হাউস গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে এ গ্যাসের ঘনত্ব বাড়লে পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

    তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মেরু অঞ্চল ও হিমালয়ের সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে এবং সমুদ্রের পানির আয়তনের প্রসারণ ঘটে। এতে ভূপৃষ্ঠে পানির পরিমাণ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। ফলে উপকূলবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এভাবেই 'খ' দেশের উপকূল প্লাবিত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ক দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দূষণ সৃষ্টি এবং দূষণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি। উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' দেশের ঘটনায় এই দুই দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দূষণ ('ক' দেশ): 'ক' দ্বীপরাষ্ট্রে অগ্ন্যুৎপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও অন্যান্য গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগই এখানে দূষণের কারণ।

    দূষণ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ('খ' দেশ): 'খ' দেশে কারখানা ও রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বায়ুদূষণ ঘটিয়ে গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এতে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূল প্লাবিত হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ে, ফলে অতিবৃষ্টি ও ঝড়-ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ে। এখানে দূষণই দুর্যোগের কারণ।

    এভাবে 'ক' দেশে দুর্যোগ দূষণ ঘটিয়েছে এবং 'খ' দেশে দূষণ দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সুতরাং দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একটি অন্যটিকে ত্বরান্বিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও