সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মফস্বল শহরের মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী আকবর সাহেব কমিটির তহবিল বাড়াতে একটি পুকুরের ইজারা নিলামে তুললেন। প্রথমে কয়েকজন ডাক দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অপছন্দের এক ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ডাক দিলে তিনি হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘ভাইসব, আজ উপস্থিতি কম, নিলাম আগামীকাল হবে।’ ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে হাজী সাহেব বললেন, ‘মসজিদের কল্যাণই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।’ অথচ এলাকার লোকেরা জানে, এর আগে তিনি একই উদ্দেশ্যের দোহাই দিয়ে সার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন।

  1. ক)

    ব্রাদার জন নিলামে পয়লা ডাক কত হেঁকেছিল?

    (1)
  2. খ)

    “End justifies the means”—ব্রাদার জন কেন এ কথা বলেছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হাজী আকবরের আচরণে ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের ব্রাদার জনের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ব্রাদার জনের নিলাম স্থগিতের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় সাজের আড়ালে স্বার্থ হাসিলের কৌশল ছিল”—উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রাদার জন নিলামে পয়লা ডাক হেঁকেছিল পাঁচ হাজার টাকা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কেরোসিন ব্ল্যাকমার্কেটের দায়ে নাসির মোল্লার আদালতে অভিযুক্ত হয়ে ব্রাদার জন নিজের অপরাধের পক্ষে এ যুক্তি দিয়েছিল। সে বলেছিল, উদ্দেশ্য ভালো হলে উপায়ের বিচার করা উচিত নয়। তার দাবি ছিল, কালোবাজারির টাকায় সে ভিক্ষুকদের লঙ্গরখানায় ভাত দিত। এভাবে সে নিজের অবৈধ কাজকে মহৎ উদ্দেশ্যের আড়ালে বৈধ প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাজী আকবরের আচরণে ব্রাদার জনের ধর্মের আড়ালে স্বার্থসিদ্ধির দিকটি ফুটে উঠেছে। গল্পে ব্রাদার জন সোদামিনীর সম্পত্তি নিলামে তোলে। দশ হাজার একশ টাকা পর্যন্ত ডাক উঠলে সে হঠাৎ গির্জার প্রচারবেদির সুরে ‘ভ্রাতৃগণ’ বলে নিলাম পরদিন পর্যন্ত স্থগিত করে এবং শেষে ‘আমেন’ বলে। এতে সর্বোচ্চ ডাকদাতা ক্ষুব্ধ হয়ে একে জোচ্চুরি বলে। উদ্দীপকেও হাজী আকবর সর্বোচ্চ ডাক পছন্দ না হওয়ায় ‘আজ লোক কম’ বলে নিলাম পিছিয়ে দেন এবং ‘মসজিদের কল্যাণ’-এর কথা বলে নিজের কাজের সাফাই গান। ব্রাদার জনও নিজের কালোবাজারিকে লঙ্গরখানার দোহাই দিয়ে ঢাকতে চেয়েছিল। দুজনই মহৎ উদ্দেশ্যের নাম নিয়ে অসৎ উপায়কে বৈধতা দিতে চেয়েছে। তাই উদ্দীপকের হাজী আকবরের আচরণে ব্রাদার জনের ভণ্ডামি ও ধর্মীয় লেবাসে স্বার্থসিদ্ধির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রাদার জনের নিলাম স্থগিতের পেছনে ধর্মীয় সাজের আড়ালে স্বার্থ হাসিলের কৌশল ছিল—এ মন্তব্য গল্পের তথ্যের আলোকে যথার্থ। গল্পে নিলামের ডাক দশ হাজার একশ টাকায় এসে থেমে যায়। তখন ব্রাদার জন গির্জার প্রচারবেদির মতো কণ্ঠে ‘ভ্রাতৃগণ’ সম্বোধন করে ‘আমেন’ বলে নিলাম পরদিনের জন্য রহিত করে। এতে সর্বোচ্চ ডাকদাতা রেগে গিয়ে একে ‘sheer hypocrisy’ বলে। নাসির মোল্লার মতে সম্পত্তির দাম কমপক্ষে পঁচিশ হাজার টাকা, অথচ ডাক উঠেছিল মাত্র দশ হাজারের কিছু বেশি। ওদিকে মিশনের আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না, কারণ মহাযুদ্ধের কারণে চাঁদা কমে গিয়েছিল। ফলে বেশি দামের আশায় নিলাম পিছিয়ে দেওয়াই তার স্বার্থের অনুকূল ছিল। উদ্দীপকে হাজী আকবরও অপছন্দের ক্রেতার ডাকে সম্মত না হয়ে ‘উপস্থিতি কম’ বলে একই কৌশল নেন এবং মসজিদের কল্যাণের কথা বলে নিজের কাজকে মহৎ দেখাতে চান। দুজনের ক্ষেত্রেই ধর্মীয় ভাষা ও পরিচয় ব্যবহৃত হয়েছে নিজের সুবিধার জন্য। তবে ব্রাদার জনের কৌশল আরও সুদূরপ্রসারী, কারণ সোদামিনীর সম্পত্তি মিশনের নামে লিখিয়ে নেওয়ার পরই এই নিলাম হয়েছে এবং মিশনের আয় বাড়ানোই এর লক্ষ্য। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও