ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
কুষ্টিয়ার হাসান সাহেব তাঁর জমিতে বছরে তিনটি ফসল ফলাতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন এবং অতিরিক্ত পানি সেচ দেন। কয়েক বছর পর জমির উপরিভাগে সাদা লবণের আস্তরণ দেখা দেয় এবং ফলন কমতে থাকে। পাশের বাজারের পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমির এক কোণে ফেলে রাখায় সেখানে কোনো গাছ জন্মায় না।
- ক)(1)
মাটি দূষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
মাটি দূষিত হলে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে হাসান সাহেবের জমিতে লবণ জমার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে মাটি দূষণ রোধে হাসান সাহেব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাটিতে যখন বিষাক্ত যৌগ, রাসায়নিক উপাদান, লবণ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা রোগ সৃষ্টিকারী কোনো জৈব বা অজৈব উপাদান যুক্ত হয়ে উদ্ভিদের বেড়ে ওঠা বা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হয়, তাকে মাটি দূষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাটি দূষিত হলে তাতে গাছপালা, পোকামাকড় ও অণুজীব জন্মাতে পারে না। বিষাক্ত রাসায়নিক ও লবণ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং মাটির জৈব উপাদান নষ্ট করে। অণুজীবের অভাবে মাটির স্বাভাবিক পুষ্টি চক্র ব্যাহত হয়। ফলে মাটির উর্বরতা কমে গিয়ে তা ক্রমশ অনুর্বর ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে হাসান সাহেবের জমিতে লবণাক্ততা সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত পানি সেচ ও অতিমাত্রায় কৃষিকাজ।
অতিরিক্ত পানি সেচ দিলে মাটিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তখন মাটির নিচের স্তরে থাকা লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়। এই লবণাক্ত পানি কৈশিক প্রক্রিয়ায় উপরে উঠে আসে এবং পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে লবণ জমির উপরিভাগে সাদা আস্তরণ হিসেবে জমা হয়। এছাড়া বছরে তিনটি ফসল ফলানোর ফলে অতিমাত্রায় কৃষিকাজে মাটির উর্বরতা স্তর ক্ষয় হয় এবং প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির প্রাকৃতিক গুণ নষ্ট হয়। এসব কারণে হাসান সাহেবের জমি লবণাক্ত ও কম উর্বর হয়ে পড়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে হাসান সাহেবের জমিতে দুই ধরনের মাটি দূষণ দেখা যায়। প্রথমত, অতিরিক্ত সেচ ও রাসায়নিক সার-কীটনাশকের কারণে লবণাক্ততা ও উর্বরতা হ্রাস। দ্বিতীয়ত, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকা, যা মাটিতে সহজে মিশে যায় না।
মাটি দূষণ রোধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
১. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার সীমিত করে জৈব সার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে মাটির উর্বরতা রক্ষা পাবে।
২. পরিমিত সেচ দিতে হবে, যাতে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সৃষ্টি না হয়।
৩. পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমিতে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। বাজার কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে।
৪. বেশি করে গাছপালা লাগাতে হবে, যা মাটির ক্ষয় রোধ করে ও উর্বরতা বাড়ায়।
৫. বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কৃষকদের সচেতন করতে হবে।
মাটি দূষণকারী পদার্থ সরানো ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই প্রতিরোধমূলক এসব পদক্ষেপ এখনই নিলে হাসান সাহেবের জমি আবার উৎপাদনক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও