সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রহিম মিয়া গ্রামের একজন নামকরা ঝাড়ফুঁককারী। গ্রামের কাউকে সাপে কাটলে লোকজন হাসপাতালে না গিয়ে তাঁর কাছেই ছুটে আসে। একদিন কৃষক সোলেমানকে বিষধর সাপে কামড়ালে পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও রহিম মিয়া মন্ত্র পড়ে দুই ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক চালান। সোলেমানের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই তিনি মারা যান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গ্রামে এসে বলেন, ‘সাপে কাটলে মন্ত্রতন্ত্রের ভরসা নয়, দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।’

  1. ক)

    ছেলেবেলা থেকে ন্যাড়ার কোন দুটি জিনিসের ওপর প্রবল শখ ছিল?

    (1)
  2. খ)

    “সে আজ্ঞা যে ম্যাজিস্ট্রেটের আজ্ঞা নহে এবং সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পে ন্যাড়ার শেষ উপলব্ধির সংগতি দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “সোলেমান ও মৃত্যুঞ্জয়—দুজনের মৃত্যুর পেছনে কুসংস্কারে অন্ধ বিশ্বাসই প্রধান কারণ।”—‘বিলাসী’ গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ছেলেবেলা থেকে ন্যাড়ার প্রবল শখ ছিল গোখরা সাপ ধরে পোষা এবং মন্ত্রসিদ্ধ হওয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মানতে সবাই বাধ্য এবং তা অবশ্যই কার্যকর হয়, কিন্তু বিষহরির আজ্ঞা বলে যে মন্ত্র আওড়ানো হয় তার কোনো বাস্তব ক্ষমতা নেই। মৃত্যুঞ্জয়কে সাপে কামড়ালে মন্ত্র ও দেবদেবীর দোহাই কোনো কাজে আসেনি, বিষ তার নিজের নিয়মেই কাজ করে তাকে মেরে ফেলেছে। আবার বাঙালির ক্রোধ ও বিদ্বেষ প্রায়ই মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু সাপের বিষ অব্যর্থভাবে প্রাণ কেড়ে নেয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ন্যাড়া মন্ত্রের অসারতা উপলব্ধি করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য হলো সাপে কাটলে মন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়কে খরিশ গোখরা দংশন করলে বিলাসী আঁচল দিয়ে হাত বাঁধে, শিকড় চিবাতে দেয়, ন্যাড়া মাদুলি বেঁধে দেয় এবং ‘বিষহরির আজ্ঞা’ মন্ত্র বারবার আবৃত্তি করে। আশপাশের ওস্তাদরা এসে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর দোহাই পাড়ে, এমনকি বিষকে গালাগালিও করে। কিন্তু এত আয়োজনেও মৃত্যুঞ্জয় প্রাণে বাঁচেনি। এই ঘটনার পর ন্যাড়া বুঝতে পারে, বিষহরির আজ্ঞা ম্যাজিস্ট্রেটের আজ্ঞা নয় এবং মন্ত্রে সাপের বিষ নামে না। ন্যাড়ার এই উপলব্ধি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, কারণ উভয়ক্ষেত্রেই মন্ত্রের অসারতা এবং বাস্তব চিকিৎসার গুরুত্বই প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ। উদ্দীপকে সোলেমানের মৃত্যুর প্রধান কারণ কুসংস্কার, কারণ হাসপাতালে নেওয়ার বদলে দুই ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতেও মন্ত্র ও দেবদেবীর দোহাইয়ের ওপর অন্ধ বিশ্বাসের ভূমিকা স্পষ্ট। সাপ ধরা শেখানোর সময় ন্যাড়াকে মন্ত্র শেখানো হয়েছে, দংশনের পরও মন্ত্র পড়া ও শিকড় চিবানোতেই ভরসা রাখা হয়েছে, কোনো চিকিৎসার চেষ্টা হয়নি। তবে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে আরও কিছু কারণ ছিল। বিলাসী প্রতিবার সাপ ধরায় বাধা দিত, কিন্তু নগদ টাকার লোভে মৃত্যুঞ্জয় তা শোনেনি। সেদিনও বিলাসী দুটি সাপ থাকার আশঙ্কা করেছিল, মৃত্যুঞ্জয় সতর্ক হয়নি। ন্যাড়ার ভাষায় এটি ছিল তাদের ‘পাপের দণ্ড’। অর্থাৎ কুসংস্কার, লোভ ও অসতর্কতা মিলেই মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সোলেমানের ক্ষেত্রে কুসংস্কারই মুখ্য। সুতরাং কুসংস্কার উভয় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও গল্পের ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ নয়, তাই মন্তব্যটি আংশিক সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও