সহপাঠ • শব্দার্থ ও টীকা

সহপাঠ প্রশ্ন

উত্তরের নদীভাঙা জনপদের মানুষ মনসুর আলী। এ বছর চরের জমিতে ফসল হয়নি, অথচ তার সংসারে সদস্য আটজন। অভাবের তাড়নায় সে জীবিকার সন্ধানে ঢাকার পথে রওনা দেয়, কিন্তু অচেনা শহর নিয়ে মনে মনে এক অজানা শঙ্কাও কাজ করে। তাদের গ্রামে খাবারের অভাব থাকলেও ধর্মচর্চার কমতি নেই; মসজিদে মুসল্লির ভিড় আর মক্তবে শিশুদের কোরান মুখস্থ করার শব্দ লেগেই থাকে। তবু মনসুর বোঝে, কেবল ধর্মকথায় ছেলেমেয়ের ক্ষুধা মেটে না।

  1. ক)

    'নলি' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন দিকগুলো 'লালসালু' উপন্যাসের শুরুতে বর্ণিত অঞ্চলের চিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ধর্মচর্চা নয়, কর্মসংস্থানই ওই অঞ্চলের মানুষের মূল প্রয়োজন' – উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'নলি' শব্দের অর্থ জাহাজে চড়ার অনুমতিপত্র।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি' বলতে ঔপন্যাসিক যে অঞ্চলের বর্ণনা দিয়েছেন, সেখানকার মানুষের প্রচণ্ড অভাব ও ধর্মভীরুতা – এই দুটি বৈশিষ্ট্যকে একসঙ্গে বুঝিয়েছেন। ওই অঞ্চলে ফসল ও খাদ্যশস্যের তীব্র অভাব, অথচ মানুষের সংখ্যা অনেক। খাদ্য না থাকলেও সেখানকার মানুষের ধর্মচর্চায় কোনো কার্পণ্য নেই। টুপি ধর্মীয় আচারের প্রতীক হিসেবে এসেছে। তাই শস্যের তুলনায় টুপির আধিক্য দিয়ে অভাব ও ধর্মপ্রাণতার পাশাপাশি অবস্থানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মনসুর আলীর জনপদের অভাব, জীবিকার সন্ধানে অজানার পথে যাত্রা এবং ধর্মচর্চার প্রাধান্য – এই দিকগুলো 'লালসালু' উপন্যাসের শুরুতে বর্ণিত অঞ্চলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উপন্যাসের শুরুতে লেখক এমন এক অঞ্চলের কথা বলেছেন, যা 'শস্যহীন জনবহুল'। সেখানে ফসলের প্রচণ্ড অভাব অথচ জনসংখ্যা অনেক। উদ্দীপকেও চরের জমিতে ফসল না হওয়ায় আটজনের সংসার চালানো মনসুরের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

    উপন্যাসে অভাবগ্রস্ত মানুষ জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে, আর অজানা স্থান সম্পর্কে তাদের মনে অনিশ্চয়তার শঙ্কা কাজ করে। উদ্দীপকে মনসুর ঢাকায় রওনা দিলেও অচেনা শহর নিয়ে তার মনে একই শঙ্কা বিদ্যমান।

    উপন্যাসের ওই অঞ্চলের মানুষ ধর্মভীরু; 'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি' – সেখানে খাদ্য না থাকলেও ধর্মচর্চার কার্পণ্য নেই। উদ্দীপকেও গ্রামে মসজিদ ও মক্তবে ধর্মচর্চার আধিক্য দেখা যায়।

    সুতরাং দারিদ্র্য, জীবিকার জন্য দেশান্তরি হওয়ার প্রবণতা ও ধর্মচর্চার আধিক্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও উপন্যাসের অঞ্চলের চিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মনসুরের গ্রামে মসজিদ ও মক্তবে ধর্মচর্চার অভাব নেই, তবু ফসলহীনতায় তার সংসার চলে না। সে নিজেই বোঝে, ধর্মকথায় ছেলেমেয়ের পেটের ক্ষুধা মেটে না। তাই বাধ্য হয়ে সে কাজের সন্ধানে শহরের পথে রওনা দিয়েছে। অর্থাৎ বাঁচার জন্য তার প্রয়োজন জীবিকা বা কর্মসংস্থান।

    'লালসালু' উপন্যাসেও ঔপন্যাসিক এমন এক অঞ্চলের কথা বলেছেন, যেখানে শস্য নেই, কিন্তু 'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি'। সেখানকার মানুষ হেফজ ও কেরাতের চর্চা করলেও 'পেট শূন্য'; ধর্মীয় বিদ্যা ও চর্চা দিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। এ কারণেই অভাবের তাড়নায় সেখানকার মানুষ নলি নিয়ে জাহাজে চড়ে অজানার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে।

    তবে ধর্মচর্চা অপ্রয়োজনীয় – এ কথা এখানে বলা হচ্ছে না; বরং ক্ষুধা মেটানোর জন্য যে ধর্মচর্চার পাশাপাশি জীবিকার ব্যবস্থা অপরিহার্য, সে বাস্তবতাটিই এখানে ফুটে উঠেছে।

    উদ্দীপক ও উপন্যাস – উভয় ক্ষেত্রেই অভাবের মূল সমাধান হিসেবে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। অতএব মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও