জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
সুমি দুপুরের খাবারের জন্য তিনটি খাদ্য নিল: মধু, ভাত ও দুধ। তার শিক্ষক বললেন, “এই খাদ্যগুলোতে বিভিন্ন গঠনের শর্করা আছে এবং সবগুলো একই গতিতে শক্তি জোগায় না।”
- ক)(1)
বহু শর্করা কাকে বলে?
- খ)(2)
আমরা চাল, আটা, আলু রান্না করে খাই কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের খাদ্য তিনটিতে কোন কোন ধরনের শর্করা প্রধানত আছে? উদাহরণসহ লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিক্ষকের মন্তব্যটি মধু ও ভাতের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে শর্করা বহু সংখ্যক মনোমার (এক শর্করা) দিয়ে গঠিত, তাকে বহু শর্করা (Polysaccharide) বলে। যেমন: শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চাল, আটা ও আলুর প্রধান শর্করা শ্বেতসার। কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না। রান্না করলে শ্বেতসার সহজে পরিপাক হয়। পরিপাকের পর এটি সরল শর্করা গ্লুকোজে পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। এ কারণে আমরা এসব খাদ্য রান্না করে খাই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. মধু: এতে এক শর্করা (Monosaccharide) আছে, যার উদাহরণ গ্লুকোজ। এটি একটি মনোমারবিশিষ্ট।
২. দুধ: এতে দ্বি-শর্করা (Disaccharide) আছে, যার উদাহরণ ল্যাকটোজ। এটি দুইটি মনোমারবিশিষ্ট (ডাইমার)।
৩. ভাত: এর উৎস চাল, যাতে বহু শর্করা (Polysaccharide) শ্বেতসার আছে। এটি বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের মন্তব্য যথার্থ। মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হলে তবেই দেহে শোষণযোগ্য হয়।
১. মধু: মধুতে এক শর্করা গ্লুকোজ আছে, যা সরল শর্করা। তাই এটিকে আর ভাঙতে হয় না এবং খুব দ্রুত শোষিত হয়ে শক্তি জোগায়।
২. ভাত: ভাতে বহু শর্করা শ্বেতসার আছে। খাওয়ার পর শ্বেতসার পরিপাক হয়ে ধাপে ধাপে গ্লুকোজে পরিণত হয়, তারপর শোষিত হয়। তাই এ থেকে শক্তি পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।
অতএব, শর্করার গঠন ভিন্ন হওয়ায় মধু ও ভাত একই গতিতে শক্তি জোগায় না; শেষ পর্যন্ত উভয়ই গ্লুকোজে পরিণত হয়ে দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও